নাটোরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ০৫:৫২ এএম

নাটোরের বড়াইগ্রামে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুরের ওই ঘটনায় গতকাল সোমবার সকালে মো. সিদ্দিক (৩৭) নামে স্থানীয় এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার ওই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয় বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।  নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বাড়ির পাশে পোড়াবাড়ী বিলে শাক তুলতে যায় ওই স্কুলছাত্রী। এ সময় ওই এলাকার রফিক (৩৫) ও তার সহযোগী সিদ্দিক দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছাত্রীটিকে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে ওই ছাত্রীর হাত-মুখ বেঁধে প্রথমে রফিক তাকে ধর্ষণ করে। সিদ্দিক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করার আগেই মুখের বাঁধন খুলে যাওয়ায় চিৎকার শুরু করে সে। এরপর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলিপ কুমার দাস জানান, এ ঘটনায় গত রবিবার রাতে নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা গেলেও মূল আসামি রফিক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে সোহেল (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে আড়িখোলা রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত রবিবার ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয় বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন। সোহেল কালীগঞ্জ পৌরসভার তুমলিয়া গ্রামের আফাজ  উদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ির পাশে একটি মাঠে যায় ওই তরুণী। একপর্যায়ে তাকে একা পেয়ে পাশের একটি ধঞ্চে ক্ষেতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে একই এলাকার সোহেল। কালীগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মিজানুল হক জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ওই রাতেই একটি মামলা করেন।

ধর্ষণের শিকার দুই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা : কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত উপজেলা অষ্টগ্রামে ধর্ষণের শিকার হয়ে এক ছাত্রীসহ দুই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী (১৩) দলবদ্ধ ধর্ষণে এবং দেওঘর ইউনিয়নে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক কিশোরী (১৫) ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। দুই কিশোরীর মধ্যে ধর্ষণের শিকার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীর বাবা (ভিক্ষুক) বাদী হয়ে গত শনিবার অষ্টগ্রাম থানায় মামলা করেছেন। অন্যদিকে ছাত্রীর পরিবারের দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের সুযোগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের মামলায় আসামির নাম জাসেম মিয়া (২১)। সে উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের মোল্লাবাড়ির আলমগীর মিয়ার ছেলে।

কিশোরীর পরিবার ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি বিকেলে ধর্ষক জাসেম অর্থ ও পোশাকের লোভ দেখিয়ে স্থানীয় হাজী এমরান মিয়ার দোচালা টিনের ঘরে নিয়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে নানা সময়ে ধর্ষক জাসেম মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ওই কিশোরী এখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীর বাবা (৭০) পেশায় ভিক্ষুক। নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় অন্যের জায়গায় বাড়ি বানিয়ে থাকেন। বর্তমানে তিনি দেওঘর ইউনিয়নের মোল্লাবাড়ির হাজী এমরান মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ে রয়েছেন। তার এই দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে ধর্ষক জাসেম প্রায়ই ভিক্ষুকের ঘরে আসা-যাওয়া করত। একপর্যায়ে ভিক্ষুকের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়েকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে জাসেম শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য জাসেম কিশোরীকে নিষেধ করে। ধর্ষণের শিকার কিশোরী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সে কাউকে কিছু না বলে চুপ থাকে। ঘটনার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলে মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন ধরা পড়লে জাসেম তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। পরে এ বিষয়ে গত শনিবার অষ্টগ্রাম থানায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার খবরটি জানাজানি হলে ধর্ষক জাসেমের পরিবার কিশোরীর পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলে কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতালে কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। পরে সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ধর্ষণের শিকার কিশোরীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছেন। আসামি গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের মসজিদজাম এলাকার সোনারুহাটি গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণে অভিযুক্তরা হলো মনছুর মিয়া (৫৫) ও শেখ নজরুল ইসলাম (৪৫)। দুই অভিযুক্তের মধ্যে মনছুর মসজিদজাম এলাকার সোনারুহাটি গ্রামের প্রয়াত আফিল উদ্দিনের ছেলে এবং নজরুল একই ইউনিয়নের শেখেরহাটি গ্রামের প্রয়াত শেখ মঈন উদ্দিনের ছেলে।

অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী ও পরিবারের তথ্যমতে, ধর্ষণের শিকার কিশোরী স্থানীয় অষ্টগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৬ জানুয়ারি রাতে টয়লেটে যাওয়ার জন্য বের হলে পাশের বাড়ির মনছুর মিয়া ও শেখ নজরুল ইসলাম কিশোরীর ঘরে ঢুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। প্রথমে মনছুর ও পরে নজরুল হত্যার হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মেয়েটির চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে দুই ধর্ষক পালিয়ে যায়। ওই ছাত্রী এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা জানান, তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে ওই স্ত্রীর সঙ্গে থাকেন। দারিদ্র্যের কারণে তিনি মেয়েকে নিয়ে অভাবে দিন পার করেন। জীবিকার তাগিদে মেয়েকে বাড়িতে রেখে তিনি ঢাকায় গিয়ে গুলশান এলাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছেন। ছুটিতে মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসেন। মেয়েটি বাড়িতে একা থেকে স্কুলে লেখাপড়া করে। এ সুযোগে প্রতিবেশী মনছুর তার সহযোগী নজরুলকে নিয়ে তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালায়। সুবিচারের আশায় তিনি ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এর কোনো বিচার হয়নি।

ছাত্রীর মা বলেন, ‘মেয়েটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকলে আমার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা করালে রিপোর্টে আমার মেয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানতে পারি। বিষয়টি মীমাংসা না করে বরং উল্টো আমাদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে ধর্ষকের পরিবার ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম থানার ওসি  কামরুল ইসলাম মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুটি ঘটনা আমি অবগত হয়েছি। দেওঘর ইউনিয়নের ঘটনায় ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মেয়েটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমি মৌখিকভাবে কাস্তুল ইউনিয়নের মসিজদজাম এলাকার গণধর্ষণের বিষয়টি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে ভিকটিমের পরিবার লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দুটি ঘটনাতেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত