বরিশালে স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে ৮ দফা দাবি বাসদের

আপডেট : ২৪ জুন ২০২০, ০৪:০৪ পিএম

বরিশালে করোনা চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট, করোনা পরীক্ষায় ভোগান্তি, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয়হীনতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) দাবিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

বিনা পরীক্ষায়, বিনা অক্সিজেনে, বিনা চিকিৎসায় কোনো মৃত্যু আমরা চাই না এই শ্লোগান নিয়ে বরিশালে করোনা টেস্ট দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানি বন্ধ, পিসিআর ল্যাব বাড়িয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০০ টেস্ট, করোনা রোগী পরিবহনের জন্য বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুসহ ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি করে বাসদ।

বুধবার বেলা ১১টায় নগরের ফকিরবাড়ী রোড দলীয় কার্যলয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনর মাধ্যমে ওই দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দেশে করোনা চিকিৎসায় বরিশাল সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে করোনা চিকিৎসায় বরিশালের এই পিছিয়ে থাকার কারণ পর্যাপ্ত জনবল না থাকা, পিসিআর ল্যাব না থাকা এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অব্যবস্থানাই দায়ী।

সরকারি তথ্য সূত্রে দেখা যায়, ঢাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য ৩৮টি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, চট্টগ্রামে ৯টি, নতুন বিভাগ রংপুর এবং ময়মনসিংহে ২টি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। অথচ বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার এক কোটির বেশি মানুষের চিকিৎসা ভরসাস্থল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার পরিক্ষার জন্য মাত্র একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

এই ল্যাবে জনবল সংকটসহা নানা সমস্যা বিরাজ করছে। ফলে করোনার নমুনা পরীক্ষায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যার দিক থেকেও বিভাগীয় শহর বরিশাল সর্বনিম্নে রয়েছে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে বেড ১৮টি হলেও সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছে মাত্র একজন।

ডা. মনীষা বলেন, বরিশালে স্বাস্থ্যখাতে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসাক্ষেত্রের অব্যবস্থাপনা চরম আকার ধারণ করেছে। নগরীতে গুরুতর অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য করোনা নমুনা সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নেই। সবাইকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কিংবা দিনের পর দিন অপেক্ষা করে নমুনা দিতে হচ্ছে।

করোনাকালীন সময় স্বাস্থ্যসেবায়  প্রশাসন-সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ বিভাগের মধ্যে কাজের সমন্বয়হীনতা প্রকট। এর বাইরে বরিশাল নগর ও জেলায়

সরকারি-আধাসরকারি ও বেসরকারি প্রায় ৩০টি ক্লিনিক হাসপাতাল থাকার পরও সেখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। একমাত্র ভরসা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। করোনা রোগী পরিবহনের জন্য বরিশালে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো অ্যাম্বুলেন্স সেবাও নেই।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আজ বৃহস্পতিবার ২৫ জুন বরিশালে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে ৮ দফা দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত