সিপিডির সংলাপে প্রতিমন্ত্রী

বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই

আপডেট : ২৫ জুন ২০২০, ০৫:৫৪ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের বাড়তি বিল নিয়ে চিন্তিত না হতে গ্রাহকদের অনুরোধ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেছেন,  ‘কিছু কিছু জায়গায় বেশি বিল করা হয়েছে, এটা ভুল হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছি। কাছাকাছি বিদ্যুৎ অফিসে গেলে বিল ঠিক করে দেওয়া হবে। গ্রাহকের কোনো ভয় নেই। কাউকে অতিরিক্ত বিল দিতে হবে না।’ গতকাল বুধবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

‘২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতের বাজেট : অগ্রাধিকার খাতে বরাদ্দ ও বিকল্প প্রস্তাব শীর্ষক’ ওই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান। এতে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। সংলাপে অর্থনীতিবিদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান আমলা অংশ নেন।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনটি প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অনুসারে বিদ্যুতের চাহিদার কোনো প্রাক্কলন আছে কি না? ভাড়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে ব্যবসায়িক চাহিদার কোনো সমন্বয় আছে কি? এসব প্রশ্নের উত্তরে নসরুল হামিদ বলেন, ‘ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আর রাখতে চাই না। গত বছর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে কিছু সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি ভাড়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রকে অবসরে পাঠানো হবে। বিদ্যুৎ খাতে বিদেশি অর্থায়ন আনতে ‘বিদ্যুৎ বন্ড’ ছাড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

সিপিডির মূল প্রবন্ধে বলা হয়, করোনা সংকটের সময় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় অধিক উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়টি উঠে এসেছে। খরচ সাশ্রয়ে এই অতিরিক্ত সক্ষমতা থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করা দরকার। ভবিষ্যতে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগতে পারে, সেটা বিবেচনায় এনে বিদ্যুতের চাহিদা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

এ বিষয়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনের অতিরিক্ত সমক্ষমতা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করা যায়। কিন্তু অতিরিক্ত সক্ষমতা খরচও বাড়ায়। তাই এর ব্যবস্থাপনা ঠিক করা দরকার। তা না হলে বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর চাপে।’

তিনটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। এর বাইরে নতুন করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনায় না যাওয়ার পরামর্শ দেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম। এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের কী ক্ষতি করছে তা নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা করা যেতে পারে। সরকার এসব বিষয়ে ওয়াকিবহাল আছে। প্রয়োজনে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত