দিনাজপুরের পার্বতীপুরে গবাদিপশুর ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসের চিকিৎসা না থাকায় আক্রান্ত গরুর মালিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
অন্যদিকে, আক্রান্ত গরু ও মারা যাওয়ার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে। সরকারি দপ্তরে এ রোগের চিকিৎসায় কোনো ওষুধ সরবরাহ নেই। রোগ সম্পর্কে নেই মাঠপর্যায়ে কোনো সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
ইতিমধ্যে সহস্রাধিক গরু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০টা গরু মারা গেছে বলে কৃষক ও খামারিদের দাবি।
পার্বতীপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলায় দুগ্ধ খামারের সংখ্যা ২০৫টি ও ছাগলের খামার ১০৫। ২০১৯-২০ সালে গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫টি। ছাগলের সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৫টি। মোষের সংখ্যা ছিল ১৬৫। তবে গরু পালনের হার দিনদিন বাড়ছে উপজেলায়।
জানা গেছে, ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত গরুর গায়ে ছোট ছোট গুটি ওঠে ও ফুলে যায়, পা ফুলে যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা হয়। এই রোগে আক্রান্ত গরুর কোনো চিকিৎসা না থাকলেও পল্লী প্রাণী চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ওষুধ ও প্যারাসিটামল দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পল্লী প্রাণী চিকিৎসক জানান, ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসের চিকিৎসা না থাকায় রোগ বুঝে তারা ওষুধ দিয়ে এই রোগ নিরাময়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। চিকিৎসায় কিছু কিছু রোগাক্রান্ত গরু ভালো হচ্ছে দাবি তাদের। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছোট আকারের অল্প বয়সের গরু বেশি মারা যাচ্ছে।
এসব ভাইরাস আক্রান্ত গরু সস্তায় কিনে নিয়ে স্থানীয় কসাইরা হাট-বাজারে জবাই করছেন। ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আলম মিয়া জানান, রোগাক্রান্ত অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়া মোটেই ঠিক হবে না।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. আবদুর রাজ্জাক বলেন, লাম্পি স্কিন ভাইরাসটি কয়েক মাস আগে দেখা দেয়। এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রোগ প্রতিরোধের জন্য অফিসে কোনো ওষুধ নেই। তবে রোগের ধরন বুঝে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে কী পরিমাণ গরু আক্রান্ত হয়েছে ও মারা গেছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, এ রোগে আক্রান্ত হলে পশুর চামড়া অনেকটাই অকার্যকর হয়ে যায়।
