আশা ছিল আরও শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা হবে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ০৭:৫৩ এএম

‘বুমেরাং’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে আলোচনায় মৌটুসী বিশ্বাস। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

কেমন আছেন?

এই তো ভালো আছি। আর দশজনের মতোই ঘরে বসে সময় কাটছে।

কাজের কী খবর?

এখনো শ্যুটিং শুরু করিনি। কারণ, এই করোনা পরিস্থিতে কাজ করার সাহস পাচ্ছি না।

নতুন ধারাবাহিক...

আরটিভিতে আমার অভিনীত একটা নতুন ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে। ‘টিপু সুলতান’ নামের এই নাটকটার কাজ করেছি লকডাউনের আগে। এখানে নিহারীকা নামের এক মেয়ের চরিত্রে কাজ করি। নাটকটা মূলত ডাকাতদের নিয়ে। নাটকে আমি নিহারীকা চরিত্রে অভিনয় করি। আমার চরিত্রটা এমন যে ঘটনাচক্রে এই মেয়েটিও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ডাকাত হয়ে পড়ে। আমি আমার কাজটুকু ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

ব্যক্তিজীবন...

অনেক বছর পর একটা লম্বা সময় ঘরে কাটল। এর আগে এত লম্বা সময় ঘরের ভেতর আমার কখনো কাটেনি। আমি তো যেকোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি। কিন্তু এবার দীর্ঘদিন ঘরে থাকার ফলে এতই অলস হয়ে গেছি যে আগের মতো বাজারে গিয়ে বাজার করি না। এখন অনলাইনেই অর্ডার দিয়ে বাজার করছি। এরপরে মনে হবে বাইরে বেরোতেই মন চাইবে না। কারণ, ঘরে থাকতে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।

করোনা সংকটে...

এটা একটা বড় ইন্ডাস্ট্রি। আমাদের কাজটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ আমরা সবাই ফ্রিল্যান্সার। আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করছি না। আবার কবে নাগাদ কাজের পরিবেশ ফিরে আসবে সেটাও বলতে পারছি না। আবার কাজ করতে গেলে অনেক বিষয়েই নজর দিতে হবে। আগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জায়গায় অনেক সময় অনেকে ইগনোর করত। কিন্তু এখন সেটা ইগনোর করার কোনো উপায় নেই। এখন সবাই শ্যুটিং স্পটগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নজর দিচ্ছে। একটা বিষয় যে, আমাদের শিল্পী বা কলাকুশলীদের ওই অর্থে করোনা হয়নি। আশা করছি এখন থেকে সবাই সাবধানতা মেনেই কাজ করবে।

ওয়েব সিরিজ বিতর্ক...

আমরা তো আসলে পরিচালকনির্ভর অভিনেতা-অভিনেত্রী। এটা ডিরেক্টর মিডিয়া। পরিচালকের ওপর ভরসা করেই আমরা কাজ করি। অনেক বেশি দায়িত্ব থাকে একজন পরিচালকের। আমি যত কাজ করেছি সব কাজই অভিনেত্রী হিসেবে করেছি। আমাদের এখানে নাটক একভাবে নির্মিত হতো। এখন বাইরের দুনিয়ার দেখাদেখি নাটক-টেলিফিল্মেও পরিবর্তন এসেছে। এখন নতুন একটা জোয়ার এসেছে। সেটা হচ্ছে ওয়েব সিরিজ জোয়ার। এখন পরিস্থিতিটা হচ্ছে, কাউকে জোর করে কিছু দেখাতে পারবেন না। যে যার খুশিমতো কনটেন্ট দেখবে।

আমাদের যে ওয়েব সিরিজটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সেটা নিয়ে বলব এই পরিচালকের সঙ্গে এর আগেও কাজ করেছি। যেহেতু পরিচালকের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত ছিলাম, সেক্ষেত্রে ভরসা করেই কাজটা করেছি। কিন্তু ওভারঅল যেভাবে ওয়েব সিরিজটা উপস্থাপন করার কথা ছিল, সেভাবে করা হয়নি। এর বাইরে আরেকটা ঘটনা ঘটেছিল। এটা পাইরেসি হয়ে যায়। আমরা আসলে নতুন একটা কিছু উপহার দেওয়ার জন্যই সাহস দেখিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে আমার মনে হয়েছে অনেক খামতি আছে। আমি আশা করেছিলাম আরও শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা হবে, কিন্তু সেভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আর এখানে তো শুধু আমার একার কাজ নয়, এটা সম্মিলিত একটা কাজ ছিল, যেখানে আমি একটা টুলমাত্র। তো এটা একটা এক্সপেরিমেন্টাল কাজ ছিল। তারপরও যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে সেসব খেয়াল করেছি। সবাই যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছে তা কিন্তু নয়, অনেকে প্রশংসাও করেছে। তো ভালো-মন্দ মিলিয়েই রেসপন্স আসছে। আমি একটা কথাই বলব একটা পরীক্ষামূলক কাজ করলাম, নিজের আগের ইমেজ থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু করলাম। একটা গণ্ডি থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু করা সাংঘাতিক ঝুঁকির কাজ। তো ঝুঁকির কাজে ভালোও হয় আবার মন্দও হয়। তো একটা নতুন প্রচেষ্টার শুরু হলো, ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় দেখা যাক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত