এবার সাংবাদিকের ওপর চড়াও হাসপাতালের আনসার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ০৬:১২ এএম

সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হলেন রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আনসার সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টা দিকে ক্যানসার আক্রান্ত এক রোগীর স্বজনকে মারধরের ছবি তুলতে গেলে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটোসাংবাদিক জয়িতা রায়কে মারধর করতে উদ্যত হন তারা। এসব ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে তাদের রোষানলে পড়েন দেশ রূপান্তরের ফটোসাংবাদিক রুবেল রশীদ। এ সময় তাদের হামলায় তার ক্যামেরার ফিল্টার ভেঙে যায়। এ ঘটনায় রুবেল রশীদ গতকাল রাত ৮টার দিকে মুগদা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর-১১৩(৩/৭/২০২০)।

মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুগদা হাসপাতালে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল তা তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছি। ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্তের পর জড়িতদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সরকারি ৫০০ শয্যার  এ হাসপাতালে আসা রোগী, তাদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল কভিড-১৯ টেস্টের জন্য ৪০ জনকে টিকিট দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৩৪ জনের পরীক্ষা করেই আনসার সদস্যরা বলেন ৪০ জনের পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। তখন বাকি রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রতিবাদ করতে থাকেন। এ সময় ৩৬ নম্বর সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা শাওন হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী সেখানে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের কাছে গিয়ে বলেন, ৩৪ জনের নমুনা জমা নিলেও তারা বলছে ৪০ জনের নিয়েছে। তখন পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি আনসার সদস্যদের কাছে গিয়ে বলতে বলেন।

শাওন হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মা ক্যানসারের রোগী। তার করোনা পরীক্ষার জন্য কয়েক দফায় চেষ্টা করে অবশেষে ৩৬ নম্বর সিরিয়াল পেয়েছিল। কিন্তু আমার সিরিয়াল আসার আগেই আনসার সদস্যরা বলেন, ৪০ জনের হয়ে গেছে। আর হবে না। তাদের এ কথার প্রতিবাদ করেছিলাম আমি। নিজে গুনে গুনে সিরিয়াল ঠিক করে দিয়েছিলাম আগত লোকজনের। অথচ এ কাজ আনসারদের করার কথা ছিল। বিষয়টি বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা আমাকে কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে ভেতরে নিয়ে যেতে থাকেন। তখন সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হন তারা।’ শাওন আরও বলেন, ‘চারজন আনসার সদস্য আমাকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। তখন তাদের একজন রশি দিয়ে বাঁধতে বলেন আমাকে। একজন লাঠি দিয়ে বাড়ি দেন। আরেকজন ব্যাট দিয়ে আঘাত করেন। এরপর আরও একজন ছয়-সাতটা চড় মারেন। এভাবে ২০-২৫ মিনিট মারধর করার পর তিনজন পুলিশ আসে। তাদের একজন আমার নাম-ঠিকানা লিখে রেখে বলেন, এসব বিষয় যদি সাংবাদিকরা জানে তাহলে তোর খবর আছে। এরপর ওই পুলিশ সদস্যদের চেষ্টায় আমি সেখান থেকে ছাড়া পাই।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক যুবক মারধরের শিকার হলে দুজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেন। তখন আনসার সদস্যরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একাধিক আনসার সদস্য একজনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া একজন নারী সাংবাদিককেও চড় মারতে গেলে ওই সাংবাদিক কোনোরকমে নিজেকে রক্ষা করেন।’

হাসপাতালে আসা আরেক রোগীর স্বজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আনসার সদস্যদের কাজ হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের সিরিয়াল মেইনটেইন করা। অথচ তারা নিজেরা সে দায়িত্ব পালন না করে রুমের ভেতরে গিয়ে বসে থাকেন। এ কথা বলতে গিয়ে বৃহস্পতিবারও একজন তাদের হাতে মারধরের শিকার হন। মাঝেমধ্যেই তারা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।’

রুবেল রশীদ জানান, গতকাল সকালে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন তিনি। রুবেল রশীদ বলেন, ‘লাইনে থাকা একজনকে মারধর করতে দেখে আমাদের এক নারী সহকর্মী ছবি তুলতে গেলে তাকে চড় মারতে উদ্যত হন এক আনসার সদস্য। এরপর আমি ছবি তুলতে গেলে থাবা দিয়ে আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আমার ক্যামেরার ফিল্টার ভেঙে যায়। এ ঘটনায় মুগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক (যোগাযোগ) মেহেনাজ তাবাসসুম রেবিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনেই সেখানকার আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পরীক্ষার নমুনা নেওয়া বন্ধের বিষয়টি সম্পূর্ণ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের বিষয়। তাই বলে এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি ঠিক হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত