মৃত্যুর তিনদিন পর জানা গেল গৃহবধূ কভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগী ছিলেন। গৃহবধূ রহিমা খাতুন (৩৭) গত বুধবার ভোর ৩টার দিকে মারা যান। গত শুক্রবার রাতে করোনা রিপোর্ট প্রাপ্তির পর শনিবার সকালে জানা গেছে তিনি করোনার রোগী ছিলেন।
রহিমা খাতুন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী। মৃত্যুর সময় পরিবারের কেউ জানতেন না গৃহবধূ করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এর আগের গত রবিবার (২৮ জুন) রহিমা খাতুনের প্রচণ্ড জ্বর ও সর্দি-কাশি দেখা দিলে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। দুই দিন চিকিৎসার পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাড়িতে ফিরে আসলে পরের দিন ভোরে তিনি মারা যান।
এদিকে গৃহবধূর মৃত্যুর পর বুধবার (১ জুলাই) সকালে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং গত শুক্রবার রাতে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান।
মৃত গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা যায়, রহিমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে ব্রংকাইটিসে ভুগছিলেন। হঠাৎ শরীরে প্রচণ্ড জ্বর ও সর্দি-কাশি দেখা দিলে গত রবিবার (২৮ জুন) চিকিৎসার জন্য উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দুইদিন ভর্তি থাকার পর মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে আনা হয় রহিমাকে। ওইদিন দিবাগত রাত ৩টার দিকে রহিমা নিজ বাড়িতে মারা যান।
পরিবারের কেউ জানতেন না তিনি করোনায় সংক্রমিত ছিলেন। পারিবারিক কবরস্থানে রহিমার দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।
দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান জানান, মৃত্যুর পর গত বুধবার (১ জুলাই) সকালে রহিমা খাতুনের নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল।
রিপোর্ট পজিটিভ আসায় চিকিৎসাকালীন সময়ে ২৭ জন নার্স ও চারজন ডাক্তার নিয়মিত কাজ করেছেন। এই সময়ে সেবাদানকারী ডাক্তার ও নার্সদের নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে তিনি জানান।
