‘ধর্ষকের’ সঙ্গেই স্কুলছাত্রীর বিয়ে দিল সালিশকারীরা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ০৬:০৯ এএম

মাদারীপুর সদরে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গেই ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিয়ের বিষয়টি এত দিন গোপন রাখা হলেও গতকাল রবিবার জানতে পারে সবাই। তবে জোরপূর্বক নয় বরং দুই পক্ষের সম্মতিতেই বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করছেন সালিশদার ওই ইউপি সদস্য। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২ জুন সদর উপজেলার কুমরাখালী গ্রামের অষ্টম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ফসলী গ্রামের সোহাগ মুন্সি (২২)। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৮ জুন মাদারীপুর সদর থানায় ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে একটি মামলাও হয়। এরপর ২০ জুন বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার নামে দুই পক্ষকে ডাকে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, সবুর মেম্বার, শহিদ মেম্বারসহ স্থানীয়রা। এ সময় অভিযুক্ত সোহাগের সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ে দেওয়ার রায় দেন সবাই।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোহাগ আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সেই সোহাগের হাতেই আমার মেয়েকে তুলে দিয়েছে সালিসদাররা। আমি গরিব মানুষ। চেয়ারম্যানের পায়ে ধরেছি। তবুও শোনেনি। জোরপূর্বক আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই।’

এদিকে পেয়ারপুর ইউপি সদস্য সবুর মেম্বার বলেন, ‘জোরপূর্বক নয়। দুই পক্ষের সম্মতিতেই সালিস হয়েছে। মেয়ের বাবাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল ছেলে পক্ষের। সেই টাকা না দেওয়ার কারণেই হয়তো সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছে মেয়ের বাবা।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাদারীপুর সদর থানার এসআই প্রবাস কুমার বসু বলেন, ‘ধর্ষণ ও অপহরণের ঘটনা সালিসযোগ্য নয়। আমি শুনেছি স্থানীয়রা নাকি এ ঘটনা মীমাংসা করে দিয়েছে। মামলার আসামিকে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত