বেতন আদায়ে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের চাপ!

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ০৬:২২ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বেতন আদায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের চাপ দিতে পারবে না এমন নিষেধাজ্ঞার পরও তা থেমে নেই। এবার বেশ কয়েকটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল কর্তৃপক্ষও অভিভাবকদের ওপর চাপ দিয়ে বেতন আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ বলছে, লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ ইংরেজি মাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মানছে না। তারা বলছে, তাদের প্রতিষ্ঠান চলে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ফির ওপর নির্ভর করে। ফলে তারা যদি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি আদায় করতে না পারে, তাহলে শিক্ষক-কর্মচারীসহ কর্মীদের বেতন দিতে পারবে না। এ কারণে টিউশন ফি আদায়ের বিকল্প দেখছে না তারা।

এদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বলছে, এরই  মধ্যে টিউশন ফি আদায়ের বিষয়ে চাপ না দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অভিভাবক হাবিবুর রহমান জানান, যেখানে সরকার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলছে, সেখানে প্রতিষ্ঠান খুলে আমাদের নানাভাবে টিউশন ফি প্রদানের জন্য বলা হচ্ছে। ইমেইল করে বিকাশ-রকেটের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এমনটি করা প্রতিষ্ঠানের একদমই উচিত হচ্ছে না। কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ফি দিতে হচ্ছে।

ডিপিএস এসটিএস স্কুল কর্র্তৃপক্ষ ফি পরিশোধের জন্য অভিভাবকদের বার বার বার্তা পাঠাচ্ছে। জানতে চাইলে অধ্যক্ষ হর্ষ ওয়াল বলেন, স্কুলটির পক্ষ থেকে বকেয়া টিউশন ফি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে কোনো টিউশন ফি বাড়ানো হবে না। বার্ষিক টিউশন ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে চারটি কিস্তি বাড়িয়ে ১০টি কিস্তি করা হয়েছে। কোনো চাপাচাপি করা হচ্ছে না।

স্কুলটির অভিভাবক ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সব কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে অনেকে পরিবারের খাদ্য জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ মুহূর্তে দেশের সব ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ৫০ শতাংশ ফি মওকুফে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।

শেলের টেক ইংলিশ ভার্সন স্কুলের অধ্যক্ষ আঞ্জুমান লায়লা বলেন, ‘আমরা টিউশন ফি প্রদানের বিষয়ে এ পর্যন্ত কোনো অভিভাবককে চাপ দেইনি। তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সংসার চলে শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায়। ফলে তাদের স্বার্থেই অভিভাবকদের বেতন দিতে বলা হয়েছে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা যদি ফি প্রদান করেন, তাহলে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা সম্ভব।’

বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিএম নিজামুদ্দিন বলেন, ‘মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হয় এসব টিউশন ফি থেকেই। বেতন পরিশোধ করতেই শিক্ষার্থীদের কাছে টিউশন ফি আদায় করছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো।’ তবে এক্ষেত্রে চাপ না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে বন্ধ থাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি নিতে চাপ দিতে বারণ করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

তবুও কেন টিউশন ফি আদায়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আবুল মনছুর ভুইয়া বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা দিয়েছি চাপ দিয়ে কোনো টিউশন ফি আদায় করা যাবে না। কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার জন্য এই টিউশন ফি নিতে তারা বাধ্য হচ্ছে। তবে কোনো অভিভাবকের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়ার বিষয়ে যদি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় অবশ্যই আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত