সীমান্তে হত্যা

সরকার প্রতিবাদ না করায় নিন্দা ২০ দলীয় জোটের

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৪ এএম

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় সরকার প্রতিবাদ না করায় সরকারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট নেতারা। একই সঙ্গে পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তারা। গতকাল রবিবার জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বৈঠকে আলোচ্য বিষয় ও সিদ্ধান্ত আগামীকাল সোমবার (আজ) ১১টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে। সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির একাংশের মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম।

এদিকে জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈঠকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছাড়াও দেশের সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, জোটের বৈঠকে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাঠকল বন্ধ ও শ্রমিকদের বিদায় করার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিএসএফ কর্তৃক ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় সরকার চুপ থাকায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন আইনকে কালো আইন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। করোনা মহামারীর মধ্যে এ ধরনের আইন করার বিষয়টিকে দুরভিসন্ধিমূলক বলেও বৈঠকে জোট নেতারা উল্লেখ করেছেন। কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারি প্রণোদনার টাকা পেতে নানা ধরনের শর্ত দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জোটের নেতারা আলোচনা করেছেন। তারা বিনা শর্তে কৃষকদের ঋণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বৈঠকে জোটের এক নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০-দলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না সাক্ষাৎ করতে পারলে জোট নেতারা কেন সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। এ সময় অন্য এক নেতা প্রস্তাব করেন ঢালাওভাবে সব নেতার সাক্ষাতের সুযোগ না হলে অন্তত জোটের সিনিয়র কয়েকজন নেতা গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। জবাবে জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটা হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি দলীয়ভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

জোটের কয়েকজন নেতার মধ্যে অসন্তোষের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বৈঠকে বলেন, যাদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে আর কোনো ক্ষোভ নেই।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিব, এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ পিপলস লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের ও বাংলাদেশ ন্যাপের একাংশের চেয়ারম্যান শাওন সাদেকী। এলডিপির একাংশের চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ অল্প সময়ের জন্য বৈঠকে উপস্থিত হলেও তিনি কোনো কথা বলেননি বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত