কুয়েতছাড়া হতে পারেন ৮ লাখ অভিবাসী শ্রমিক

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ০৫:৩৫ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার এমনিতেই একটা বড় ধাক্কার মধ্যে পড়েছে। সেই ধাক্কায় আবার যুক্ত হতে যাচ্ছে কুয়েতের প্রস্তাবিত এক্সপ্যাট কোটা বিল। প্রস্তাবিত একটি নতুন আইন পাস হলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিককে কুয়েতছাড়া হতে হবে।

দেশে অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর উদ্দেশ্যেই এ বিলটি উত্থাপন করা হয়েছে। পার্লামেন্টের লিগ্যাল অ্যান্ড লেজিসলেটিভ কমিটি এ আইনটি পাস করতে বদ্ধপরিকর। সাংবিধানিক পন্থা অনুসরণ করেই বিলটি আইন হিসেবে পাস করা হবে বলে মনে করছেন দেশটির একাধিক নেতা। প্রস্তাবিত আইনে কুয়েতে ভারতীয়দের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশের বেশি হতে না দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা মতে, আইনটি  পাস হলে কুয়েত ছাড়তে হবে কমপক্ষে ৮ লাখ ভারতীয় অভিবাসী শ্রমিককে। কুয়েতে অন্য দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা সর্বাধিক, যাদের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। গত মাসে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবা আল খালিদ আল সাবা বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ এখন বিদেশি। তাদের সংখ্যা কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হবে। প্রস্তাবিত বিলে সম্মতি দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি। আইনটি পাস হলে কুয়েতে কর্মরত ১৪ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয়র মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে অন্তত ৮ লাখ প্রবাসীকে। কুয়েতের মোট জনসংখ্যা ৪৩ লাখ। এর মধ্যে বিদেশিদের সংখ্যা ৩০ লাখ। আর এই বিদেশিদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভারতীয়।

বিশ^জুড়ে করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পরেই কুয়েত বিদেশিদের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ শুরু করে। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগের পেছনে তেলের দাম কমে যাওয়াকেও একটি কারণ বলা হচ্ছে। বিলটি পাস হয়ে আইন হলে অভিবাসী শ্রমিকরা কুয়েত ছাড়তে শুরু করলে দেশটি নতুন করে সমস্যায় পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কুয়েত যে জীবন যাপনে অভ্যস্ত, সেখানে অভিবাসী শ্রমিকদের সংখ্যা কমলে অনেক খাতেই শূন্যতা তৈরি হবে। কুয়েতের স্থানীয় জনগণকে দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণের ক্ষমতা নেই দেশটির।

ধাপে ধাপে তা কীভাবে কার্যকর করা যায়, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে খুব শিগগির তার একটি খসড়া তারা পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন স্পিকার মারজুক আল ঘানেম। তবে প্রকৃত অর্থে কুয়েতি নাগরিক যারা, সেই ১৩ লাখ মানুষের একটা বড় অংশই অশিক্ষার অন্ধকারে রয়ে গেছে। বিষয়টি তাদেরও ভাবাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আল ঘানেম। ভিসা দিয়ে বিদেশ থেকে ডাক্তার ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের ফলেও এ সংখ্যাটা বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত