ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় স্থানীয় সরকার সহায়তা প্রকল্পের (এলজিএসপি) ইউ ড্রেন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারকাণ্ডে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী। তবে এলজিএসপির আরও দুটি প্রকল্পে রড ব্যবহার না করেই জোড়াতালি দিয়ে ইউ ড্রেনের নির্মাণকাজ করা সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রাশিদা খাতুন ও হালিমা খাতুনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই ধরনের দুর্নীতি করে এক সদস্য বরখাস্ত হলেও অপর দুই সদস্য পদে বহাল থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে এলজিএসপির আওতায় গত অর্থবছরে উপজেলার আছিম-পাটুলী ইউনিয়নে ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২ টাকার ১০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলঙ্গি-কান্দানিয়া সড়কের কালিরচালা থেকে পান্নাবাড়ী সড়কে একটি ইউ ড্রেন নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয় স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীকে। গত শুক্রবার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে ইউ ড্রেনের কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরু করেন তিনি। এতে রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালি ব্যবহার করেন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু তার এই অনিয়মের গোমর ফাঁস হয়ে যায়। গত শনিবার রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালি ব্যবহারের একটি ছবি স্থানীয় বায়েজিদ আহমেদ নামে এক যুবক তার ফেইসবুক পেইজে পোস্ট করেন। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। তখন ইউপি সদস্য নিজের অপকীর্তি গোপন করতে রাতের আঁধারে শাবল দিয়ে ঢালাই ও বাঁশ তুলে নিয়ে যান।
এদিকে চাঞ্চল্যকর ওই অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ কে এম গালিভ খান ও ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল সিদ্দিক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে এলজিএসপির আরও দুটি প্রকল্পে রড ব্যবহার না করেই জোড়াতালি দিয়ে ইউ ড্রেনের নির্মাণকাজ করা দুই সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। মোহাম্মদ আলীর ইউ ড্রেন নির্মাণের তিনশ’ মিটারের মধ্যে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি ইউ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়ম করেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য রাশিদা খাতুন। অবশ্য তিনি বাঁশের ফালি নয়, রড ছাড়াই জোড়াতালি দিয়ে বেইস ঢালাইয়ের কাজ করেছেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য হালিমা খাতুনও করেছেন একই কাজ। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপে যায়নি স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এর কারণ জানতে চাইলে ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংরক্ষিত দুই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
