মাদারীপুরে লিবিয়ায় মানব পাচার চক্রের নারী সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ০৯:৫৯ পিএম

মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদীহাট এলাকা থেকে লিবিয়ায় মানব পাচার চক্রের নারী সদস্য সুমি বেগমকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে র‌্যাব-৮ ও পুলিশের হাতে নারী দালালসহ ১২ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র‌্যাব ৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ জানতে পারে যে, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মোটা অংকের বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার করছে। চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ, লিবিয়া ও ইতালিতে সমানভাবে সক্রিয়। এদের শিকার মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সের বেকার যুবকরা। চক্রটি বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে যুবকদের লিবিয়ায় পাচার করে থাকে। পার লিবিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা লিবিয়ার বন্দিশালায় তাদের আটক রেখে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং বন্দীদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদেরকে লিবিয়া হতে নৌকাযোগে অবৈধপথে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। ক্ষেত্র বিশেষে বন্দি প্রতি চক্রটি পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর একটি দল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদীহাট গ্রাম হতে সামাদ ফকিরের স্ত্রী সুমি বেগম (৩৩)কে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে  নিজেকে চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করে। সুমি বেগম তার এলাকায় দালাল চক্রের মূলহোতা কুদ্দুস (৩৮) এর সাথে যোগসাজসে অবৈধভাবে লিবিয়ায় বাংলাদেশ হতে বিভিন্ন উপায়ে মানব পাচার করে আসছিল। 

র‌্যাব আরো জানায়, গত ২৮ মে ২০২০ইং তারিখে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলির দক্ষিণ শহর মিজদায় আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র অভিবাসন প্রত্যাশিদেরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ না পাওয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে । এ ঘটনায় ১১ জন বাংলাদেশিকে গুরুতর আহত করে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত