ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের নানান অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, আপনারা জানেন, যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, তা অব্যাহত আছে। তিনি নিজ থেকেই ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে যারা বা যে অশুভ চক্র প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এসব অনিয়ম বাইরে থেকে কেউ ধরিয়ে দেয়নি। সরকার নিজ উদ্যোগে শুরু করেছে। অনিয়ম রুখতে কঠোর অভিযান চলবে। তিনি বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থা বিশেষ করে হাসপাতাল, নমুনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ, প্লাজমা ডোনেশন, সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সংগ্রহসহ অন্যান্য খাতের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের নানান অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যত ক্ষমতাধর হোক তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। যারা জনগণের অসহায়ত্ব নিয়ে অবৈধ ব্যবসা করছে, প্রতারণা করছে, শেখ হাসিনা সরকার তাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতিতে অটল।
ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা সংকটের শুরু থেকে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ অসহায়, কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্থাপন করেছে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। মাটি ও মানুষের দল হিসেবে দেশের যেকোনো দুর্যোগে সবার আগে ছুটে যায় আওয়ামী লীগ। অসহায় মানুষের পাশে থাকা আওয়ামী লীগের সাত দশকের ঐতিহ্য। তিনি বলেন, এরই মধ্যে দেশব্যাপী প্রায় সোয়া এক কোটি পরিবারে দলীয়ভাবে খাদ্য সাহায়তা দেওয়া হয়েছে। সাড়ে দশ কোটি টাকার বেশি নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। খাদ্য ও নগদ সহায়তা ছাড়াও অন্যান্য সহায়তা বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবায় সুরক্ষাসামগ্রী, টেলিমেডিসিন, অ্যাম্বুলেন্সসহ নানাবিধ উপায়ে মানুষের সঙ্গে আছে আওয়ামী লীগ। কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এখন বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা সংকটের পাশাপাশি বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের সুরক্ষা সরকারের জন্য নতুন আরেকটি চ্যালেঞ্জ। আপনারা জানেন, ফি বছর নানান ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। আমাদের আছে সংকটের সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বের দেশরত্ন শেখ হাসিনা দুর্যোগকালে মানবিকতার আধার ও আস্থার ঠিকানা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সব সময় অসহায় মানুষের পাশে আছেন। বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের সুরক্ষা মানবিক সহায়তা প্রদানে ইতিমধ্যে তিনি দিয়েছেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পরই শুরু হবে পুনর্বাসন কার্যক্রম। গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সহায়তাসহ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নেওয়া হচ্ছে গুচ্ছ পরিকল্পনা। আপনারা মনোবল হারাবেন না, মনে সাহস রাখুন।
