দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সুস্থ হয়েছেন। গতকাল রবিবার দেশে করোনা শনাক্তের ১২৭তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন সাড়ে ৯৩ হাজার ৬১৪ জন, যা মোট রোগীর ৫০ দশমিক ৯৩ শতাংশ। একই সময়ে আরও ২ হাজার ৬৬৬ জন শনাক্ত ও ৪৭ জন মারা গেছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১১ হাজার ৫৯টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, যা গত ৪৩ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ নিয়ে গত দুদিন ধরে ১১ হাজারের কিছু বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হলো। প্রায় দেড় মাসের মধ্যে গত দুদিন সর্বনিম্ন পরীক্ষা হলেও শনাক্তের হার ছিল এ যাবৎ দ্বিতীয় ও
তৃতীয় সর্বোচ্চ। গত শনিবার ২৪ শতাংশ হারে শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল শনাক্তের হার ছিল ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের দিন ৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ জনের দেহে করোনা ধরা পড়ে। ওই দিন ৪৩ শতাংশ হারে শনাক্ত এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ শনাক্তের হার।
গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১১ হাজার ২১০টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৬৬৬ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ দিন শনাক্তের হার ছিল ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪৭ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন আরও ৫ হাজার ৫৮০ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৯ লাখ ৪০ হাজার ৫২৪টি নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৩৫২ জন করোনা রোগী এবং সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৯৩ হাজার ৬১৪ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৫০ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৬ জন এবং নারী ১১ জন। সর্বোচ্চ ২৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনায় ৬ জন করে, সিলেট ও রাজশাহীতে ৪ জন করে এবং বরিশাল ও রংপুর বিভাগে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৩ জন এবং বাড়িতে ৪ জন। মৃতদের মধ্যে ১১-২০ বছরের ১ জন, ২১-৩০ বছরের ২ জন, ৩১-৪০ বছরের ৩ জন, ৪১-৫০ বছরের ৪ জন, ৫১-৬০ বছরের ১৫ জন, ৬১-৭০ বছরের ১৪ জন, ৭১-৮০ বছরের ৬ জন এবং ৮১-৯০ বছরের ২ জন।
বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৭৩৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৭ হাজার ৩১৯ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ৫৩১ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৩ হাজার ৮৩ জন। হটলাইনগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৮টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৭৫৩ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
