অ্যাপেন্ডিসাইটিস নিয়ে সতর্কতা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ০৭:৪০ এএম

আমাদের শরীরে বৃহদন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত কনিষ্ঠ আঙুলের মতো একটি সরু থলি হলো ভার্মিফর্ম অ্যাপেন্ডিকস। এটির অবস্থান তলপেটের ডানদিকে। লম্বায় এটি ২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বিবর্তনের ধারায় মানবদেহে এটি এখন আপাতভাবে নিষ্ক্রিয় একটি অঙ্গ। এটির সঠিক কাজ নিয়ে এখনো রয়েছে অস্পষ্টতা। কিন্তু এই ছোট্ট থলেতে আকস্মিক প্রদাহ হলে দেখা দেয় অ্যাপেন্ডিসাইটিস।

কারণ : কোনো কারণে অ্যাপেন্ডিকসে খাদ্যকণা বা ময়লা বা কৃমি ঢুকে গেলে কিংবা পাথর তৈরি হলে অ্যাপেন্ডিকসের নালি বন্ধ হয়ে গিয়ে সেখানে রক্ত ও পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। ফলে নানা ধরনের জীবাণুর আক্রমণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে অ্যাপেন্ডিকসে। এই সংক্রমণ থেকেই তৈরি হয় অ্যাপেন্ডিসাইটিস। বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভুগে থাকেন।

লক্ষণ : অ্যাপেন্ডিসাইটিসের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হলো পেটে ব্যথা। এই ব্যথা সাধারণ পেটব্যথার তুলনায় একটু আলাদা হয়। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা সাধারণত নাভির চারপাশে বা নাভির একটু ওপর থেকে শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টা পর তলপেটের ডান দিকের অংশে ব্যথাটা স্থায়ী হয়। থেমে থেমে ব্যথা ওঠে, যা তীব্র ও হালকা দুই রকমেরই হতে পারে। এ ছাড়া বমি বমি ভাব বা দু-একবার বমিও হতে পারে। সঙ্গে ক্ষুধামান্দ্য ও হালকা জ্বর থাকতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। ব্যথা তীব্র হলে রোগী হাসপাতালে আসতে বাধ্য হয়। তবে হালকা ব্যথা হলেও সতর্ক হতে হবে। কেননা পরবর্তী সময়ে রোগীর অ্যাপেন্ডিকসের চারদিকে বিভিন্ন উপাদান জমা হয়ে পেটে একটি চাকা বা ফোঁড়ার মতো তৈরি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে অ্যাপেন্ডিকস ছিদ্র হয়ে খাদ্যনালির ভেতরের বিভিন্ন উপাদান, পরিপাক হয়ে যাওয়া খাবারের অংশ ও মল বের হয়ে পুরো পেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে পেটের ভেতরে, এমনকি রক্তেও ছড়িয়ে পড়তে পারে গুরুতর সংক্রমণ। এ ধরনের ঘটনায় রোগীর জীবননাশের আশঙ্কাও দেখা দেয়।

চিকিৎসা : সময়মতো অস্ত্রোপচার করা না গেলে বা সমস্যা ধরা না পড়লে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের কারণে মৃত্যুও হতে পারে। এজন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘সার্জিক্যাল ইমার্জেন্সি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তাই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সমস্যা হেলাফেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় এ ব্যথাকে আমলে না নিয়ে রোগী নানা রকম ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পরবর্তী সময়ে রোগীর শরীরে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসা হলো আক্রান্ত অংশ বা অ্যাপেন্ডিকস যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলে দেওয়া। অস্ত্রোপচারের ভয়ে অনেকেই কিন্তু হাসপাতালে যেতে চান না। আবার অনেক সময় শিশু বা বেশি বয়স্করা ব্যথার সঠিক বর্ণনাও দিতে পারে না। কিন্তু জটিলতা এড়াতে পেটে ব্যথা তীব্র ও স্থায়ী কিংবা থেমে থেমে হলে রোগীকে শক্ত খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন বা মুখে খাবার দেওয়া বন্ধ রাখুন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত