আমাদের প্রিয় পৃথিবী আজ এক কঠিন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিপর্যস্ত, অসহায়, স্তব্ধ এবং নির্বাক। নিষ্ঠুর নিয়তির মতো মৃত্যু আজ ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রতিটি জায়গায়, বাসা-বাড়িতে-হাসপাতালে-আঙিনায়-রাস্তায় সর্বত্র। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও ভয়াবহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ হুমকির সম্মুখীন। জীবন ও জীবিকার সম্পর্ক অচ্ছেদ্য, একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি চিন্তা করা যায় না। তাই জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে সময়োপযোগী, সঠিক ও বাস্তবভিত্তিক কাক্সিক্ষত কৌশল গ্রহণ করতে পারাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। একটি উদীয়মান দেশ হিসেবে আমাদের রেমিট্যান্স, রপ্তানি, আমদানি, বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ, পর্যটনশিল্প ইত্যাদির ওপর করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব এখনই দৃশ্যমান। এসব মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং আরও অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ ক্রমশই জরুরি হয়ে পড়ছে।
করোনা যেমন ধনী থেকে গরিব সবাইকে আঘাত করেছে তেমনি নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বর্তমান এবং করোনাপরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। বৈশ্বিক যেকোনো মহামারীকে পরাভূত করতে হলে প্রয়োজন দেশপ্রেমিক দক্ষ নেতৃত্ব, বুদ্ধিভিত্তিক শাসনতন্ত্র এবং সঠিক কর্মকৌশল প্রণয়ন। করোনা সংক্রমণরোধ এবং মহামারীর পরে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিপর্যয় ঠেকাতে আমাদের স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে রেশন কার্ড ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সর্বোপরি হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা সম্প্রসারণ করতে হবে।
করোনা আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেউলিয়াত্ব, দুর্নীতি, অনিয়ম, অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি চোখে আঙুল দিয়ে স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন রোগ শনাক্তকরণের দুর্বলতা/ব্যর্থতা, চিকিৎসক এবং স্বাস্থকর্মীদের স্বল্পতা, জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধের অপ্রতুলতা, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাব এবং সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট মহলের মানবিক মূল্যবোধের সীমাবদ্ধতা বা অসচেতনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো মহামারী করোনা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার এবং সবার জন্য সহজলভ্য উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুযোগ এনে দিয়েছে। তাই আগামীতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে সর্বজনীন ও সহজলভ্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ইউনিভার্সেল হেল্থ কভারেজ (ইউএইচসি) এর একজন অন্যতম প্রবক্তা। ইউএইচসি বাস্তবায়নের মূল বিষয়টি হলো সরকারই হবে স্বাস্থ্যসেবার জন্য সব বা বেশিরভাগ খরচের জোগানদাতা। জাতিসংঘে ২০১২ সালে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবে স্বাক্ষরদাতা দেশ-বাংলাদেশ। থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ এশিয়ার অনেক দেশই ইউএইচসি বাস্তবায়ন করেছে। দেশের আপামর জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, সহজলভ্য ও সর্বজনীন করার প্রয়াসে আমাদের ইউএইচসি (সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া অতি দ্রুত শুরু করা উচিত।
করোনা সংকটে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বিপদগ্রস্ত। দেশে বিরাজমান তিন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা সরকার থেকে দেওয়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ অংশ সরকারই দেয়, তবে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী আবার সরকারি সুবিধা পান না। কিন্তু বেশি সমস্যায় আছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন না নিলে তারা শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে না। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। তাই শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রকৃত বিপদেই আছেন। দেশে ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বেসরকারিই ১০৫টি, ৪,৫৫১টি কলেজের মধ্যে বেসরকারি ৩,৯০০টি। ২০,৬৬০টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেসরকারি ১৯,৯৮৫টি। ১,২৯,২৫৮টি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩,৬৩৮টি বেসরকারি। এ বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এই সংকট উত্তরণের জন্য সরকারকেই একটি বিকল্প রাস্তা বা উপায় বের করতে হবে।
সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বড় বড় এবং কম প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো থেকে টাকা সরিয়ে তা করোনাপরবর্তী অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয় করবে। এর অধিকাংশই ব্যয় করা হবে সেসব ব্যবসায়ীদের জন্য যারা এ সময়ে পুঁজি হারিয়েছেন। এতে করে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। সরকার সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন বড় বড় প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত না থেকে আগে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিনিয়োগ করতে হবে। কৃষি তথা খাদ্য উৎপাদনে এবং মজুদে (খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য) জোর দিতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগী বাদ দিয়ে প্রকৃত পণ্যমূল্য সরাসরি কৃষকদের দিতে হবে। এসএমই খাতে ঋণ বিতরণে ব্যাপক জোর দিতে হবে। ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা জেলা পর্যায়ে না রেখে উপজেলা/থানা ইউনিয়ন এমনকি গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে। এখন থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাধীনতার এত বছর পর এসেও আমরা কৃষিব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করতে পারিনি। ভালো ফলন হওয়া সত্ত্বেও অনেক জায়গায় শ্রমিক না থাকায় ধানকাটা যাচ্ছিল না। এটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের উচিত ছিল কৃষি খাতকে যান্ত্রিকীকরণ করতে কৃষকদের হাতে বিনামূল্যে ধান কাটার মেশিন দিয়ে দেওয়া, তাহলে আমরা হয়তো কৃষি অর্থনীতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যেতাম। কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহে কৃষকদের প্রণোদনা সর্বাগ্রে এবং সর্বাধিকারভিত্তিতে দেওয়া উচিত।
করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। তারা ছিলেন আমাদের জাতীয় আয়ের অন্যতম উৎস। বছরের পর বছর ধরে তারা তাদের কষ্টার্জিত আয় রেমিট্যান্সের মাধ্যমে পাঠিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। আমাদের যে সমস্ত প্রবাসী দেশের বাইরে আছেন তাদের সঠিক কোনো ডাটা আমাদের কাছে নেই। এই করোনাকালে যারা দেশে এসেছেন, তাদের জন্য স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে ধন্যবাদ দিই এ জন্য যে, ইতিমধ্যে সরকার তাদের জন্য বিনা জামানতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শ্রমিক সংখ্যা বেশি কিন্তু সম্ভাব্য মহামন্দার অভিঘাত এবং তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় (সর্বোচ্চ ছিল ১৫০ ডলার, যা এখন প্রায় ১০ ডলার) বেশিরভাগ শ্রমিক সেখানে আর যেতে পারবেন কি না সন্দেহ আছে। আর তাই দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে প্রবাসে নতুন নতুন শ্রমবাজারের সন্ধান করতে হবে। তাছাড়া দেশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্প গ্রহণ করে এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও দেশে বিদ্যমান বেকার এবং করোনার প্রভাবে বেকারসহ সবার জন্য গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক কর্মসূচি (কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মতো) গ্রহণ করে এবং মাইক্রো ও স্মল এন্টারপ্রেইনারদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে অত্যন্ত অল্প সুদে আরও প্রণোদনা দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৭৮ লাখ মাইক্রো ও স্মল এন্টারপ্রেইনার রয়েছেÑ যাদের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ কর্মসংস্থান হচ্ছে। এটা আরও বাড়াতে হবে।
করোনার কারণে রপ্তানিবাজার পড়ে গেছে। এজন্য আমাদের এখন নতুন নতুন চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে হবে। যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশেই উৎপাদিত হতে পারে গুণগত বিশ্বমানের পিপিই। দেশের পিপিই চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে তা রপ্তানি করার মধ্য দিয়ে অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। ফলে রপ্তানি আয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশেও রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ও কমে যাবে। এর সঙ্গে বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্ট মেশিনারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ঔষুধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভেন্টিলেটর তৈরি করতে পারে। করোনাপরবর্তী বিশ্বে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং রপ্তানি খাত হিসেবে ওষুধ এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট মেডিকেল যন্ত্রপাতির চাহিদা বাড়বে। অতএব রপ্তানির জন্য আমরা এগুলোর দিকে এখনই নজর দেওয়া শুরু করতে পারি।
আমাদের দেশ যেহেতু উন্নয়নশীল দেশ তাই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি বেশি। অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, এ প্রণোদনা প্যাকেজ আমাদের সাময়িক সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবে, তবে দীর্ঘমেয়াদিভাবে এগুলোর মাধ্যমে আমাদের সব সমস্যার সমাধান করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও রূপরেখা প্রণয়ন। সময় এসেছে শক্ত হাতে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে পাচারকৃত টাকা এবং কালো টাকা অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনা। খেলাপি ঋণ আদায়ে জিরো টলারেন্স নীতির মাধ্যমে দেউলিয়া আইন প্রণয়নের মাধ্যমে খেলাপিদের দেউলিয়া ঘোষণা করে সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, সামাজিকভাবে হেয় করা (পাসপোর্ট জব্দ, গাড়ি বাড়ি কিনতে না দেওয়া, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, প্লেনে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা ইত্যাদি)। অর্থঋণ আদালতের মামলাসমূহের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনে বড় বড় ঋণখেলাপিদের বিচারের জন্য বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনাল গঠন করা। একদিকে যেমন আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হবে চলমান প্রকল্পগুলো শেষ করা, অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তাসহ দেশের কৃষি ও শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রেখে কর্মসংস্থান ধরে রাখা, নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা, বিকল্প আমদানি ও রপ্তানি বাজারের ব্যবস্থা করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের এখন প্রকৃতি এবং মানুষবান্ধব টেকসই মানবকল্যাণমূলক স্বনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে- যার নেতৃত্ব দেবেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। একমাত্র তিনিই পারবেন ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো এদেশের ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণকে একত্র করে আর একটি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে।
লেখক
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
