সময়মতো গার্মেন্টশ্রমিকের বোনাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ০৭:০৬ এএম

সময়মতোই ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা (ঈদ বোনাস) পাচ্ছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এছাড়া অনেক কারখানাই সক্ষমতা অনুযায়ী জুলাইয়ের আগাম বেতন দেবে। বোনাসের হার কত হবে তা স্ব-স্ব কারখানার মালিক-শ্রমিক আইনের মধ্যে থেকে আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করবে। যদিও শ্রমিকরা পূর্ণ বোনাস ও জুলাইয়ের আগাম বেতন দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার পোশাক খাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। সময়মতো ব্যাংক সহায়তা করলে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হবে বেতনের কার্যক্রম।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালক ফজলে শামীম এহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের বোনাস দিতেই হবে। মলিকদের প্রতি আমাদের পরামর্শ থাকবে আপনারা শ্রমিকদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে এসব ঠিক করেন। অন্য কারও  মধ্যস্থতার এখানে প্রয়োজন নেই। আর স্বাভাবিক সময়েও কিছু কারখানায় সমস্যা থাকে। আমাদের শ্রমিকরাও আশা করি পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবেন।’

করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে ৩ হাজার ১০৭টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কারখানা চালু আছে। এসব কারখানা প্রায় ৩৩ লাখ শ্রমিক কর্মরত। কারোনার কারণে কারখানাগুলো সরকারের প্রণোদনার ঋণের অর্থে এপ্রিল-জুনের বেতন দিচ্ছে। তবে প্রতি মাসেই ব্যাংক টাকা ছাড় করতে দেরি করায় বেতন দিতে দেরি হয়।

গত ঈদুল ফিতরের সময় শ্রমিকরা সময়মতো বেতন ও বোনাসের টাকা না পাওয়ায় আন্দোলনে নামে। এ সময় তারা বেশকিছু কারখানা ভাঙচুর করে। জুনের বেতন নিয়েও একই অবস্থা। এখনো সব শ্রমিক তার বেতন পায়নি। তাই এবার যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর বিষয়ে সতর্ক কারখানা মালিকরা। তারা ঈদের ছুটির আগেই শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দিতে চাইছে। ব্যাংকগুলো যাতে সময়মতো বোনাসের টাকা দিতে পারে সেজন্য তাগাদা দিচ্ছে।

এহসান আরও বলেন, ‘একটা সমস্যা হলো ব্যাংক টাকা দিলেও পানি ঘোলা করে দেয়। দেরি হওয়ায় শ্রমিক ক্ষেপে গিয়ে আন্দোলনে নামে। আমরা ব্যাংকারদের কাছে মিনতি করছি আপনারা দেশের স্বার্থে সময়মতো টাকাগুলো ছাড় দেবেন। কারও কোনো সমস্যা থাকলে এখনই জানিয়ে দেন।’

কারখানা মালিকদের মতো আশাবাদী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। তারা বলছে, শ্রমিকরাও বাস্তবতা বুঝে গেছেন। এ কারণে মে ও জুনের বেতন দিতে দেরি হওয়ার পরও তারা রাস্তায় নামেনি। তাদের মনে এ ধারণাও জন্মেছে যে, মালিকরা তাদের টাকা দেবে। তাই এবারের ঈদে তেমন একটা সংকট হবে না বলে মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প পুলিশের সুপার পদে কর্মরত একজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কারখানার পরিবেশ বেশ শান্ত। আশা করা যায় এবার কোনো সমস্যা হবে না। তবে পুরো বিষয়টি অনুমান করা যাবে ২০ জুলাইয়ের পর। হয়তো কিছু কারখানার শ্রমিক জুলাইয়ের আগাম বোনাস চাইতে পারে। আমরা শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে।’

করোনার পর থেকে কারখানা মালিকরা দাবি করে আসছেন তাদের ব্যবসায়িক অবস্থা খুব খারাপ। কাজ নেই, রপ্তানি কমে গেছে, ক্রেতা মূল্য পরিশোধে দেরি করছে। তবে দিনে দিনে রপ্তানিও বাড়ছে। কারখানা মালিকরা বলছেন, গত ঈদে কারও হাতে তেমন ক্যাশ ছিল না। তাই বোনাসের টাকা দিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে এবার বেশিরভাগ মালিকের হাতেই টাকা আছে। তাই খুব বেশি সমস্যা হবে না।

এদিকে শ্রমিকরা এবার ঈদে পূর্ণ বোনাস ও জুলাইয়ের আগাম বেতন দাবি করছেন। কয়েক শ্রমিক দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, গত ঈদে সবাই শতভাগ বোনাস দেয়নি। অনেকের বোনাস এখনো পাওনা। কিন্তু এবার তাদের হাতে টাকা আছে। সরকারের ঋণের টাকায় বেতন দিচ্ছে। তাই চাইলেই জুলাইয়ের অন্তত অর্ধেক আগাম বেতন ও পূর্ণ ঈদ বোনাস দিতে পারবে।

পোশাক কারখানা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেহেতু সবার হাতে কিছু কিছু টাকা আছে তাই বেশিরভাগই পূর্ণ বোনাস দিতে পারবে। অনেকে হয়তো কিছু আগাম বোনাসও দেবে। কিন্তু এরপরও অনেকে সমস্যায় পড়বে। আমি শ্রমিক ভাই-বোনদের বলব আপনারা আমাদের দিকটা দেখবেন। আর মালিকদের বলব শ্রমিকদের আপনাদের বর্তমান অবস্থার সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত