বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও খেলাঘরের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলী আসগর মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক এই অধ্যাপক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন তিনি।
আলী আসগর দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কজনিত রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে আরিফ আসগর। এদিকে আলী আসগরের মৃত্যু খবরে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী।
এক শোক বার্তায় উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, একজন বিজ্ঞানী, মুক্তচিন্তক ও প্রগতিবাদীর মৃত্যুতে বাংলাদেশের অপূরণীয় শুন্যতার সৃষ্টি হলো। সমাপ্ত হলো এক গৌরবোজ্জ্বল, বৈচিত্র্যপূর্ণ অধ্যায়ের। একটি প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের সংগ্রামে ব্রতী ছিলেন অধ্যাপক ড. আলী আজগর। গবেষণা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি বিজ্ঞান গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি, উদ্ভাবনমূলক বিজ্ঞানচর্চার আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে নানা প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন ও প্রকাশ মাধ্যমের ব্যবহারে তার মেধা ও মননকে প্রয়োগ করেছেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষা বিষয়ে তার শতাধিক প্রবন্ধ ও বই প্রকাশিত হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও শিশু-কিশোরদের জন্য বৈষম্যহীন পৃথিবী নির্মানে তিনি নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন আজীবন।
ড. আসগর আলী গণবিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। বুয়েটে ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ড. আসগর আলীর শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে প্রসিডিংস রয়্যাল সোসাইটি, ফিজিক্যাল রিভিউ, ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স, জার্নাল অব ম্যাগনেটিজম অ্যান্ড ম্যাগনেটিক ম্যাটেরিয়্যালস, ফিজিকা, গার্মোকেমিকা অ্যাকটা, জার্নাল অব অ্যালয়েজ অ্যান্ড কম্পাউন্ড, নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন, ইন্ডিয়ান জার্নাল অব ফিজিক্স, বাংলাদেশ জার্নাল অব ফিজিক্স, জার্নাল অব বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস প্রভৃতি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জার্নালে।
গবেষণা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি বিজ্ঞান গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি, উদ্ভাবনমূলক বিজ্ঞানচর্চার আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বিজ্ঞানকে জনবোধ্য ও জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে নানা প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন ও প্রকাশ মাধ্যমের ব্যবহারে তার মেধা ও মননকে প্রয়োগ করেছেন তিনি।
ড. আসগর আলী গবেষণা-ল্যাবরেটরি ও বিজ্ঞান ক্লাব গড়ে তোলার পাশাপাশি রেডিও, টেলিভিশন, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ম্যাগাজিন, দৈনিক পত্রিকা- সব মাধ্যমকেই দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেছেন বিজ্ঞানমনস্কতা ও বিজ্ঞান চর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষা বিষয়ে তার কয়েকশ’ প্রবন্ধ ও ২০টির মতো বই প্রকাশিত হয়েছে।
সর্বস্তরে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে বিজ্ঞান বিষয়ক একাধিক বই লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সময় প্রসঙ্গে, ভাষা ও বিজ্ঞান, বিজ্ঞান প্রতিদিন, বিজ্ঞানের বিচিত্র জগত থেকে, বিজ্ঞানের মজার প্রজেক্ট, বিজ্ঞান ও সমাজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশের পথে, পরিবেশ ও বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের দিগন্তে, বিজ্ঞান আন্দোলন উল্লেখযোগ্য।
ড. আসগর আলী বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সস-এর ফেলো এবং বাংলাদেশ জার্নাল অব ফিজিক্স-এর চিফ এডিটর ছিলেন।
খেলাঘর আন্দোলকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে ড. আলী আসগরের অবদান অনন্য। সাংগঠনিক প্রয়োজনে সারাদেশে চষে বেড়িয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান আন্দোলের পথিকৃত ছিলেন। বিজ্ঞান খেলাঘরের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খেলাঘরের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
