শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কবি কাজী নজরুল ইসলাম আবাসিক হল থেকে ইয়াবা, মদ ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ ২জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রশাসন। এ সময় আরও ২জন শিক্ষার্থী সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
আটক দুজনের মধ্যে রাহাত আফনান (কৃষি অনুষদ) নামে শেকৃবির সাবেক শিক্ষার্থীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আহসান হাবিব বাবু নামে এক বহিরাগতকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- রতন (কৃষি অনুষদ) ও শোভন হালদার (বিজনেস অনুষদ)।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় নজরুল হলের ২০৭নং রুম থেকে ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।
জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বার বার অকৃতকার্য হয়ে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া এসব মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শক্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া, ধরা পড়লেও তাদেরকে শাস্তি ছাড়াই ছেড়ে দেওয়ার কারণে বন্ধ ক্যম্পাসেও তাদের মাদক সেবন ও ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে।
হলটির বর্তমান শিক্ষার্থীরা জানান, ঐ ২০৭ নম্বর রুম ইয়াবা রুম নামেই পরিচিত, নিয়মিত ওখানে মাদকের আসর জমায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী কিছু সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা। এমনকি নিয়মিত ছাত্রদের ঐ রুমে উঠতে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ আছে।
এ ব্যাপারে কবি নজরুল হলের প্রভোস্ট ড. আনিসুর রহমান বলেন, করোনার ছুটিতে বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া হলে যে কোনো শিক্ষার্থীর যাওয়া-আসা বন্ধ। হলের নির্মাণকাজ চলছে। পকেট গেট দিয়ে তারা সুযোগ পেয়ে হলে প্রবেশ করলে তাদেরকে চলে যাওয়ার জন্য বললে তারা আবার লুকিয়ে হলে থেকে যায়। পরে তাদেরকে সন্দেহ করলে রুমে গিয়ে এসব মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। এ সময় ২জন পালিয়ে যায় এবং ২জনকে আটক করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী প্রক্টর রুহুল আমিন বলেন, হল প্রভোস্ট ২জনকে মাদকের অভিযোগে আটক করলে শেকৃবির এক শিক্ষার্থীকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় আর বহিরাগতকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
