কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নেই, পানিতে ডুবে ৪ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৭ পিএম

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি সামান্য কমলেও ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ঘর-বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২ লক্ষাধিক বানভাসী মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

ত্রাণ স্বল্পতার কারনে চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছে এসব বন্যা দুর্গত মানুষেরা। চারনভুমি তলিয়ে থাকায় তীব্র হয়ে উঠছে গবাদি পশুর খাদ্যের সংকট।

এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে জেরার উলিপুরে ২ শিশু, নাগেশ্বরীতে এক শিশু ও চিলমারীতে এক গ্রাম পুলিশসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার দুপুরে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ও হাতিয়া ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে উপজেলার ব্রহ্মপূত্র নদের দুর্গম চরাঞ্চল সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চর বাগুয়া গ্রামের মোস্তাজুল ইসলামের শিশু পুত্র বায়েজিদ ইসলাম (৮) সবার অগোচরে বন্যার পানিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়।

ওইদিন দুপুরে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চিড়াখাওয়ার পাড় এলাকায় বাবু মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে এসে মুন্নি খাতুন নামের দেড় বছরের এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। নিহত মুন্নি খাতুন উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চর গোড়াইপিয়ার গ্রামের বকুল মিয়ার কন্যা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের বন্যা কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ আখের আৃালী জানান, নাগেশ্বরী উপজেলার ২ নম্বর পৌর ওয়ার্ডের ষোলোর খামার গ্রামের নুর আলমের কন্যা নুসরাত জাহান ফারিহা সবার অলক্ষ্যে পানিতে পড়ে যায়। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

চিলমারী উপজেলার থানার হাট ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ডুবে এক গ্রাম পুলিশের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই গ্রাম পুলিশের নাম সুরুজ্জামান মিয়া (৫৫)। তিনি চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ি কিসামত বানু গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বাড়ির সামনের বিলে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা পাটের জাগ খুঁজতে গিয়ে সে ডুবে মারা যায়। মৃত সুরুজ্জামান চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত ছিল। চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, গত ২০ জুন থেকে এ পর্যন্ত কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ জনই শিশু।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৮ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার সাথে সাথে রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গন তীব্র হয়ে উঠছে বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, এ পর্যন্ত কুড়িগ্রামের বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ১৭০ মেট্রিক টন চাল, জিআর ক্যাশ ৯ লাখ টাকা, ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত