গেল বছর নেপাল এসএ গেমসে নারী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বর্ণ উপহার দেন কারাতেকা মারজান আক্তার প্রিয়া। মেয়েদের কুমিতে অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজিতে জেতেন স্বর্ণ । পরে মেয়েদের দলগত কুমিতে স্বর্ণ জয়ের মিশনে নেমেছিলেন। কিন্তু সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে হয় তাকে।
শেষ পর্যন্ত ওই ইভেন্টে স্বর্ণ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। প্রিয়ার বিকল্প নাইমাকে নিয়ে রুপা জেতেন হোমায়রা আক্তার অন্তরা ও মাউনজেরা বর্ণা। তবে সেদিনের স্বর্ণ হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় মারজানকে। আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে হলেও এ ক্ষেত্রে নিজের টেকনিকের ঘাটতিকেই দায় দিচ্ছেন তিনি।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন মারজান। সঙ্গে ছিলেন গেমসের আরেক স্বর্ণজয়ী কারাতেকা হোমায়রা আক্তার অন্তরা।
অনুষ্ঠানে সেদিনের দলগত ইভেন্টে স্বর্ণ হাতছাড়া হওয়ার প্রসঙ্গে মারজান বলেন, ‘সেই দিনের ঘটনার জন্য অনেকটাই আমার নিজের দোষ ছিল। আমি যদি আরো সাবধানে খেলতাম অথবা আরো মনযোগ দিয়ে খেলতাম তাহলে হয়তো ইনজুরির ব্যাপারটা আমার সাথে ঘটতনা। আমাদের খেলায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের যে ব্যাপারটা থাকে, হয়তো বা আমি টেকনিকের দিক থেকে দুর্বল ছিলাম। যে কারণে আমার ইনজুরির ব্যাপারটা হয়।’
সেমিফাইনালের লড়াইয়ে সেদিন শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে প্রিয়ার খেলা শুরুর পর এক পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন। এ অবস্থায় শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষ প্রিয়ার কান লক্ষ্য করে পাঞ্চ করতে থাকেন। একটা পাঞ্চে প্রিয়া মারাত্মক ব্যথা পেয়ে লুটিয়ে পড়েন ম্যাটে। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মাথা ঘুরিয়ে আবার ম্যাটে আছড়ে পড়েন।
এরপরও মারজান নিজের কাঁধে দায় টেনে আরো বলেন, ‘বাকি যে দুজন খেলোয়াড় ছিল আমাদের টিমে (হোমায়রা ও বর্ণা), তারা আমার থেকেও অনেক ভালো চেষ্টা করেছে। হয়তো বা আমার চেষ্টার ঘাটতির কারণে ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে ম্যাট থেকে ছিটকে পড়ি। আমার কারণে হয়তো বা আরো একটা স্বর্ণ বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যায়। এই আফসোসটা আমি যত দিন খেলব ততদিনই থেকে যাবে, যে আমার কারণে বাংলাদেশের একটি স্বর্ণ হাতছাড়া হয়েছে বা আমার ক্যারিয়ার থেকে একটি স্বর্ণ হারিয়ে গেছে।’
