কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রবাসী ছেলে ঈদ উপলক্ষে তার বাবাকে টাকা পাঠানোয় স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩০) ব্লেড দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পা্ওয়া গেছে।
রবিবার সকালে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পিপড়িয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তবে নিহত রোজিনার বাবা আবদুল মান্নান বলেন, ‘মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর থেকেই তার উপর স্বামীর পরিবারের সবাই নানাভাবে নির্যাতন করতো। যার কারণে সে এই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।’
নিহত রোজিনা আক্তার পিপড়িয়াকান্দা গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস মিয়ার স্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পূর্বহাটি গ্রামের মান্নান মিয়ার মেয়ে।
খবর পেয়ে মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, পিপড়িয়াকান্দা গ্রামের ওয়াজেদ মিয়ার ছোট ছেলে ইলিয়াস মিয়া প্রায় ১২ বছর আগে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পূর্বহাটি গ্রামের মান্নান মিয়ার মেয়ে রোজিনা আক্তারের সাথে পারিবারিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ৩টি ছেলে রয়েছে। ছেলে ও নাতিদের সুখের জন্য বাবা ওয়াজেদ মিয়া তাদের বানিয়ে দিয়েছেন আলাদা বাড়িঘর। তারপরও স্বামী ইলিয়াস মিয়া প্রবাস থেকে বাবার উদ্দেশে কিছু পাঠালেই সংসারে অশান্তি করতেন রোজিনা আক্তার। আসছে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রবাস থেকে ছেলে ইলিয়াস মিয়া বাবা ওয়াজেদ মিয়ার জন্য ১০ হাজার, স্ত্রী রোজিনা আক্তারের জন্য ২১ হাজার ও দাদির জন্য ৫ শত টাকা পাঠান। শ্বশুরকে টাকা দেয়ার জের ধরে রোজিনা আক্তার তার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়।
আর সেই ঝগড়ার জের ধরেই রবিবার সকালে গলায় ব্লেড লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে মোবাইল ফোনে জানান নিহত রোজিনার স্বামী ইলিয়াস মিয়া।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, নিহতের স্বামী তার বাবাকে ঈদ উপলক্ষে টাকা দেয়ার জের ধরে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।
নিহত রোজিনার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
