রাজধানীর হাতিরপুলে একটি বাসায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে আগুন ধরে এক চিকিৎসক দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধরা হলেন ডা. রাজিব ভট্টাচার্য (৩৬) ও তার স্ত্রী ডা. অনূসূয়া ভট্টাচার্য (৩২)। এর মধ্যে ডা. রাজিব ভট্টাচার্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার শরীরের ৮৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন তিনি।
রাজিব ভট্টাচার্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক আর তার স্ত্রী ডা. অনূসূয়া ভট্টাচার্য শ্যামলী সেন্ট্রাল মেডিকেল চক্ষু বিভাগের রেজিস্ট্রার।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, রাজিবের শ্বাসনালিসহ শরীরের ৮৭ শতাংশ ও তার স্ত্রীর ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। রাজিবকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। স্ত্রীর অবস্থাও গুরুতর। আমরা যতটুকু শুনেছি বাসার ভেতর হ্যান্ড স্যানিটাইজার আগুনের সংস্পর্শে এই অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
রাজিবের বন্ধু ডা. সুদীপ দে জানান, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে বাসায় রাজিব একটি বড় বোতল থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছোট বোতলে ঢালছিল। তখন বোতল থেকে স্যানিটাইজার পড়ে গেলে মুখে সিগারেট বা রুমে থাকা মশার কয়েলের আগুনের সংস্পর্শে তার শরীরে আগুন ধরে যায়। এটি দেখতে পেরে তার স্ত্রী সম্ভবত তাকে বাঁচাতে গিয়ে সেও দগ্ধ হয়। পরে তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের ভাড়াটিয়ারা তাদেরকে রাতেই উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে।
ডা. রাজিবের চাচাতো বোন তপু ভট্টাচার্য জানান, ওই বাসায় তারা স্বামী-স্ত্রী, এক মেয়ে এবং রাজিবের বাবা থাকেন। তাদের মেয়ে রাজশ্রী ভট্টাচার্যকে তিন সপ্তাহ আগে কুমিল্লায় দাদির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ছয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে ছিল। এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা বলে আমাদের মনে হচ্ছে না। অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা। রাজিবের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইস্টগ্রামে। তার স্ত্রী ডা. অনূসূয়ার বাড়ি সিলেটে।
