করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বত্র মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে ২১ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় যে পরিপত্র জারি করেছিল, তার প্রত্যাহার চেয়ে মন্ত্রাণলয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের উদ্দেশ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. মুহম্মদ আব্দুল আলী মারুফের পক্ষে উচ্চ আদালতের আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান।
তিন দিন সময় দিয়ে বলা হয়েছে, পরিপত্র প্রত্যাহার করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটিশে বলা হয়, ঢালাওভাবে মাস্ক পরিধানের নির্দেশনা কোনোভাবেই বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এটি বিপজ্জনক হতে পারে বলে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। মুখে মাস্ক পরে শরীরচর্চা, প্রাতঃভ্রমণ করলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। এ অবস্থায় অক্সিজেন কমে গিয়ে তা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দৈহিক পরিশ্রম হয় এমন কাজের সময় মাস্ক ব্যবহার করলে অক্সিজেনের ঘাটতিসহ মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত এমনকি অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরানো ও স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।
আইনজীবী জানান, বেশি সময় ধরে মাস্ক ব্যবহারের ফলে অনেকের নাক-মুখে ছোট লালচে ও গোলাপি ব্রণ, র্যাশ উঁকি দিচ্ছে। খসখসে ত্বক, চুলকানি, ঠোঁটের চারপাশে লাল গুটির মতো দাগ হচ্ছে। যারা বয়োসন্ধিতেও ব্রণের সমস্যায় ভোগেননি, তারাও মাস্ক ব্যবহারের ফলে সমস্যায় পড়েছেন।
নোটিশে আরো বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে মাস্ক ব্যবহার সংক্রান্ত পরিপত্রটি সুস্পষ্টভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার বিপরীত। পরিপত্রের নির্দেশনাসমূহ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ সব শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিক, হকার, রিকশা ও ভ্যানচালকদের জন্য মাস্ক পরিধান গুরুতর স্বাস্থ্যগত সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
