শিক্ষাবর্ষ বাঁচানোর উদ্যোগ

ছোট হচ্ছে প্রাথমিকের সিলেবাস

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ০৬:১৫ এএম

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় চার মাস বন্ধ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চরম ক্ষতি হচ্ছে। নষ্ট হতে চলেছে একটি শিক্ষাবর্ষ। করোনাকালে সরকার টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠ কার্যক্রম চালিয়ে নিলেও তা থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বঞ্চিত থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষাবর্ষ বাঁচাতে প্রাথমিকের সিলেবাস ছোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে ধরে নিয়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে সিলেবাসের পাঠ কার্যক্রম শেষ করে ডিসেম্বরে পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।

গতকাল শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা জানান, সিলেবাসে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পাবে। বাকি বিষয় আলাদা রাখা হবে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে (নেপ) এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, করোনার কারণে দীর্ঘ বন্ধে টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়। দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক শিক্ষার্থী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে দ্রুত সিলেবাস শেষ করতে পারে, তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। শ্রেণিভিত্তিক মৌলিক সক্ষমতা অর্জনের বিষয় চিহ্নিত করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অন্তর্ভুক্তের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষাবর্ষ পেছানো ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও নেপ কাজ করছে। নতুন সিলেবাসের আওতায় শিক্ষার্থীরা সাধারণ ছুটির পর পাঠ কার্যক্রম শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা দিতে পারবে। কিন্তু ছুটি দীর্ঘ হলে শিক্ষাবর্ষ শেষ করার জন্য পরবর্তী বছরের দু-এক মাস যুক্ত করা হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুটি স্তরে ক্লাসের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করা হচ্ছে। প্রথম স্তরে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি এবং দ্বিতীয় স্তরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সিলেবাস করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে জোর দিয়ে ক্লাস ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।’

নেপ মহাপরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাথায় রেখে কাজ করা হচ্ছে। দু-তিন মাসের মধ্যে যাতে সিলেবাস শেষ করা যায়, সে চেষ্টা থাকবে। আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে এ-সংক্রান্ত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত