নতুন মহামারির ভয়ে ভিয়েতনামে বন্য প্রাণী কেনা-বেচা নিষিদ্ধ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ০১:১০ পিএম

করোনাভাইরাসের মতো নতুন কোনো মহামারির ঝুঁকি এড়াতে সব ধরনের বন্যপ্রাণী আমদানি নিষিদ্ধের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত পণ্য দ্রব্যের উৎপাদন সীমিত করার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিয়েতনাম সরকার।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনার ফলে ইন্দোচীন অঞ্চলের দেশটিতে কার্যত বন্য প্রাণী সংক্রান্ত সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত সব ধরনের বাজার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। বন্ধ করা হচ্ছে অনলাইনে কেনা-বেচাও।

আদিম ওষুধ তৈরির জন্য বনরুইয়ের আইশ ও গন্ডারের সিং জাতীয় পণ্যের কেনা-বেচার অভিযোগ থাকলেও এসব রোধে এত দিন তেমন নজর দিচ্ছিল না ভিয়েতনাম।

অনেক আগে থেকেই বিজ্ঞানীরা সতর্কতা আরোপ করে আসছেন, বন্যপ্রাণীর ব্যবসা নতুন রোগের উৎসে পরিণত হতে পারে। চলমান করোনাভাইরাস মহামারি বিজ্ঞানীদের এই সতর্কতা আরও জোরালো করেছে।

গত বছরের শেষের দিকে চীনের উদান থেকে ছড়িয়ে পড়ে অতি ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রাণ গেছে ৬ লাখের বেশি মানুষের।

ধারণা করা হয়, বন্যপ্রাণী ব্যবসার কারণেই বাদুড় থেকে বনরুই বা ইঁদুরজাতীয় অন্য কোনো প্রাণী হয়ে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। যদিও এ ব্যাপারে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

করোনা মহামারির পরই বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বাণিজ্য নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ভিয়েতনাম। দেশটির সরকারের ওয়েবসাইটে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, জীবিত বা মৃত যেকোনো ধরনের বন্যপ্রাণী, ডিম বা দেহাংশ আমদানি করা নিষেধ।”

“সকল নাগরিক, বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের এসব অবৈধ বন্যপ্রাণীর চোরাচালান, কেনা-বিক্রি, পরিবহন থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। অবৈধভাবে বন্যপ্রাণীর সকল বাজার ও ট্রেডিং সাইটগুলো বন্ধ করে দেবে সরকার।”

ভিয়েতনামের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন পাচারবিরোধী সংগঠন ফ্রি-ল্যান্ডের চেয়ারম্যান স্টিভেন গলস্টার, “কভিড-১৯ ও অন্যান্য মহামারির সঙ্গে বন্যপ্রাণীর ব্যবসার যোগসূত্রতা আছে তা মানায় ভিয়েতনামকে অভিনন্দন।”

“আন্তর্জাতিক স্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য এই ব্যবসা অবশ্যই বন্ধ হওয়া দরকার।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত