দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তত ১৮ জেলার নি¤œাঞ্চল এখন পানির নিচে। তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী এবারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি চলতি মাসে আর হচ্ছে না এ পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটির মতে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে দেশে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে পদ্মা অববাহিকার জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। বাকি জেলাগুলোতে বন্যা স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে বন্যার পানি ঢাকাকে ঘিরে ধরার পর রাজধানীর দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ডেমরা পয়েন্টে বালু নদীতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী ৪-৫ দিন ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে এবং ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে এই সময়ে পদ্মা অববাহিকার অর্থাৎ দেশের মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়াসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে চলতি সপ্তাহে দেশে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই।’
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১০ দিনের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে গত শুক্রবার বলা হয়েছে, আজ রবিবার নাগাদ ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ফলে কুড়িগ্রাম, বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতি জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ক্রমান্বয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে। নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি বাড়ার ফলে জেলার নি¤œাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আগামী ৫ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এরই মধ্যে গতকাল ঢাকার ডেমরা এলাকায় বালু নদীতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পূর্বাভাস কেন্দ্রের গতকালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, বন্যাকবলিত দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৮ জেলার মধ্যে ১৬ জেলায় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। কেবল সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থিতিশীল থাকতে পারে। যেসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল এবং নওগাঁ।
সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের ১০১টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৪৩টিতে পানি বেড়েছে ও ৫৮টিতে কমেছে। এ সময় দেশের ১৭টি নদীর ২৭টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৭ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল যমুনার সারিয়াকান্দি পয়েন্টের পানি। এ ছাড়া পদ্মার গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপরে।
বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরকে উদ্ধৃত করে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারতের আসাম, মেঘালয় এবং হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গে ভারী বর্ষণ কমে এলেও আগামী প্রায় তিন দিন পর্যন্ত আসাম এবং হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে এ সময়ে সাময়িকভাবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
