করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া ৯,৬১০ জন সংস্কৃতিকর্মীকে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন অনুদানের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (অনুষ্ঠান) অসীম কুমার দে।
মার্চ মাসে করোনার মহামারি পরিস্থিতি শুরু হলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদসহ বিভিন্ন জাতীয় ভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে আর্থিকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া শিল্পীদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এরই প্রেক্ষিতে মে মাসের শেষ দিকে আর্থিক অনুদান সহায়তা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শিল্পকলা একাডেমি এবং সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতায় এই অনুদানের অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
অসীম কুমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা মহামারির পরিস্থিতিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি অর্থ বছরে আর্থিক সংকটে থাকা তালিকাভুক্ত সংস্কৃতিকর্মীদের মাসিক ভাতা দেয়া হয়। সেই তালিকার বাইরে এবার করোনা পরিস্থিতিতে সাড়ে চার কোটি টাকারও বেশি বিশেষ আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে সংস্কৃতিকর্মীদের।
জানা গেছে, সারা দেশের আর্থিক সংকটে থাকা সংস্কৃতিকর্মীদের তালিকা রয়েছে মন্ত্রণালয়ে, যারা মন্ত্রণালয় থেকে মাসিক ভাতা পান। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই তালিকা করা হয়েছে। গত অর্থ বছরে নিয়মিত মাসিক ভাতা দেওয়া হয়েছে ৩,৭৫৬জন সংস্কৃতিকর্মীকে, যার পরিমাণ ৫ কোটি ৮৯ লাখ ২১ হাজার টাকা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এই তালিকার বাইরে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় দশ হাজার সংস্কৃতিকর্মীকে।
অসীম কুমার দে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে সর্বনিম্ন ২ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত একজন সংস্কৃতিসেবীকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাসিক ভাতার তালিকায় যারা রয়েছেন তারা ১২০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাতা পান। তাদের ভাতার টাকা প্রতি মাসে না দিয়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বছরে একবার দেয়া হয়। বিগত অর্থ বছরে মাসিক ভাতাপ্রাপ্ত ৩,৭৫৬জন সংস্কৃতিকর্মীকে ৫ কোটি ৮৯ লাখ ২১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’
