ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নে জিনজিরা ২০ শয্যা হাসপাতালে চলছে করোনা রোগীদের চিকিৎসা। এখন এই হাসপাতালের সামনের রাস্তায় বসেছে কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট।
এই হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তিসহ প্রতিদিন করোনা পরীক্ষা করাতে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসে। প্রতি বছর এই স্থানে হাট বসলেও এবার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়তি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালটির সামনে হাট বসায় মানুষজন ও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ফলে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসীরা।
সরেজমিনে সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ২০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে একপাশে হাটের গরু রাখা হয়েছে। অন্যপাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। হাসপাতালের করোনা পরীক্ষা করাতে আসা অনেকেই ভিড় ঠেলে হাসপাতালে প্রবেশ করছেন। হাসপাতালটির সামনে দাঁড়িয়ে আছে ভর্তি রোগীদের কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন।
করোনা পরীক্ষা করাতে আসা ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জানান, প্রতি বছর এখানে হাট বসে, এবারো বসবে, তবে পুরো কেরানীগঞ্জ থেকে মানুষজন এখানে করোনা পরীক্ষা করাতে আসে, এ জন্য একটু বাড়তি ব্যবস্থা থাকা দরকার ছিলো।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক করোনা রোগীর ছোট ভাই মো. ইয়াসিন বলেন, প্রতিদিন আমার মতো অনেকে এখানে ভর্তি থাকা রোগীদের খোঁজখবর নিতে আসেন। হাট বসেছে রাস্তা পুরো বন্ধ হয়ে গেছে। কেরানীগঞ্জের করোনা রোগীদের একমাত্র হাসপাতাল এটি। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও হাট কর্তৃপক্ষের নজর রাখা উচিত ছিলো।
এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা জানান, হাসপাতালটির সামনে পশুর হাট বসানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এখানে গরু রাখলে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হবেই। বিশেষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে হাসপাতালটিতে করোনা পরীক্ষা করাতে আসা করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে আক্রান্তের হার অনেক বাড়তে পারে।
জিনজিরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও হাটের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা হাজী সাকুর হোসেন সাকু বলেন, সেই আদিকাল থেকেই জিনজিরা হাট এভাবেই বসছে। করোনা হাসপাতালের সামনে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, হাসপাতালের সামনে হাট বসেছে এ ব্যাপারটা আমি মাত্রই জানলাম। আমি এখনই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
