ভেঙেই পড়ল বাধা উপেক্ষা করে বাঁশ দিয়ে ছাত্রলীগ নেতার তৈরি ওয়াস ব্লক

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২০, ০৭:৪৪ পিএম

বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক ভেঙে বেরিয়ে এল বাঁশের কঞ্চি (টুনি)। রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় নির্মাণের তিন বছরের মধ্যেই ওয়াস ব্লক ভেঙে পড়ে। 

করোনাভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় দুর্ঘটনার হাত থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রক্ষা পায়। তবে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করায় ঠিকাদারকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে দরপত্র আহ্বান করে। ৭ লাখ টাকার ওই কাজ পান আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ঠিকাদার নুর জামাল। ব্লক নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। শুরুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নুর জামাল তার কাজ চালিয়ে যান। 

সস্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তার ভয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ দেখভাল করতে পারেনি। তৎকালীন উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে আঁতাত করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামাফিক রডের পরিবর্তে বাঁশের কাঞ্চি (টুনি) দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে। 
আরো জানা যায়, ২০১৭ সালে ওই কাজ শেষ হয়। ওই সময়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়ার কাছে প্রত্যায়ন চান ওই ছাত্রলীগ নেতা। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় তিনি প্রত্যায়ন দেননি বেলে দাবি করেন তিনি। 

এরপর ওয়াস ব্লক নির্মাণের তিন বছরের মাথায় লেন্টিন ও ওয়ালে ফাটল ধরে। ওই ফাটল মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য এ বছর বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। শনিবার ওই ওয়াস ব্লকের মেরামতের কাজ শুরু করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাজ মিস্ত্রি সুলতান হাওলাদার কাজ শুরু করতেই মুহুর্তের মধ্যে ওয়াস ব্লকের লেন্টিন ও ওয়াল ভেঙে পড়ে। এরপরই লেন্টিন থেকে বেরেয়ে আসে রডের পরিবর্তে বাঁশের কাঞ্চি। 

তাৎক্ষণিক রাজমিস্ত্রি সুলতান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের খবর দেন। প্রধান শিক্ষক রডের পরিবর্তে রাশের কাঞ্চি দেখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানকে জানায়। 

রবিবার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান বিদ্যালয় ভাঙা ওয়াস ব্লক পরিদর্শন করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুর জামাল গিয়ে ভাঙা ওয়াস ব্লক থেকে বাঁশের কাঞ্চির লেন্টিন ও কাঞ্চি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। 

এ সময় তারা স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন।

স্থানীয় মুরাদ খান, দেলোয়ার হোসেন ও এনামুল খাঁন  বলেন, ঠিকাদার নুর জামাল রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে। ঠিকাদার নুর জামালের বিচার দাবি করছি।

বিদ্যালয় দফতরি মো. শাওন খলিফা বলেন, প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুর জামাল এসে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা ভেঙে পড়া লেন্টিন সরিয়ে ফেলেছেন। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা শোনেনি। পরে গোপনে আমি ভাঙা লেন্টিনের দুইটি টুকরো লুকিয়ে রেখেছি।
রাজমিস্ত্রি মো. সুলতান হাওলাদার বলেন, মেরামতের কাজ শুরু করামাত্র ওয়াস ব্লকের লেন্টিন ও ওয়াল ভেঙে পড়ে। পরে দেখতে পাই লেন্টিনের মধ্যে রাশের কাঞ্চি। তিনি আরো বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সমুদয় ওয়াস ব্লকে রডের পরিবর্তে বাশের কাঞ্চি ব্যবহার করেছে। 

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসা. সুলতানা রাজিয়া বলেন,  ঠিকাদার নুর জামাল ওয়াস ব্লকের কাজের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করেন। ওই সময় আমি নিষেধ করলে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। আমি তার কাজের কোন প্রত্যয়ণ দেইনি। এখন দেখছি রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার নুর জামাল রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত