মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০১৯’ পেয়েছেন ইজাজ আহমেদ মিলন ও জি এম ফয়সাল আলম। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় আগারগাঁও এর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সেমিনার কক্ষে এ পদক প্রদান অনুষ্ঠান হয়।
১৯৭১ সালের ১৪ মে গাজীপুরের বাড়িয়া এলাকায় সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে ‘১৯৭১: বিধ্বস্ত বাড়িয়ায় শুধুই লাশ’ শীর্ষক ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে গাজীপুরের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক মুক্ত সংবাদ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্য প্রিন্ট মিডিয়ায় ইজাজ আহমেদ মিলন এবং চ্যানেল ২৪ -এর অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘সার্চলাইট’-এ ‘অজানা গণহত্যা’ শিরোনামের প্রতিবেদনের জন্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জি এম ফয়সাল আলম এ পদক পান।
পদক তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও জুরিবোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বও করেন তিনি। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জুম লিংকের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব সারা যাকের স্বাগত বক্তব্য দেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে সাংবাদিকতায় যারা কাজ করছেন, তারা আমাদের জাতীয় জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিরসলভাবে কাজ করে চলেছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য পদক প্রদানের এই ভাবনাটিও ব্যতিক্রম এবং অভিনব।’
পদকপ্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে ইজাজ আহমেদ মিলন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বজলুর রহমানের নামাঙ্কিত এ পদকপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে আমার জীবনের অন্যতম ঘটনা। এর আগে ২০১৫ সালে প্রথমবার এ পদক পেয়েছিলাম, তখনই মনে হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতায় আমার দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। দ্বিতীয়বারের মতো এ পদকপ্রাপ্তিতে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। এ বিষয়ে আরও কাজ করার উৎসাহ পেয়েছি।
দৈনিক সংবাদের সম্পাদক বজলুর রহমান বাংলাদেশে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ। মুক্তিযুদ্ধকালে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে জনমত সৃষ্টি করেছেন, স্বাধীনতার পর প্রধানত: সাংবাদিকতাকে অবলম্বন করে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ২০০৮ সালে আকস্মিক অকাল মৃত্যুর পর তার পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য বিশিষ্টজনের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ডের মনোনয়নের ভিত্তিতে বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রবর্তন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। পদকপ্রাপ্তকে সম্মাননা স্মারকসহ এক লাখ টাকার আর্থিক সম্মানী দেয়া হয়।
