সাবেক ছাত্রনেতা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বাবুর অকালমৃত্যু

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৭ এএম

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল বারী বাবু গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত ৪টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে তার জানাজা হয়। জানাজা শেষে বাবুর মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নেওয়া হয় এবং সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বাবুর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শোক জানিয়েছে।

সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাবুর মরদেহ নেওয়া হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তার কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে তার কফিন বিএনপির পতাকা দিয়ে ঢেকে দেন দলের মহাসচিব। বাবুর জানাজায় অংশ নিয়ে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পুরোটা সময় অঝোরধারায় কেঁদেছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বাবুর মৃত্যুতে নেতাকর্মীদের মধ্যে যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তা কাটিয়ে উঠতে দলের সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।

সকাল ১০টার কিছু আগে বাবুর মরদেহ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজায় অংশ নিতে আগে থেকেই ভিড় করছিলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। জানাজায় অংশ নেন বিএনপি নেতা মো. শাজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, আমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম, জামায়াতের মহানগর নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইয়াসীন আলী, ঢাকার রামগতি ইয়ুথ ফোরামের নজরুল ইসলাম বাবলুসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা শাহ নেছারুল হক।

জানাজার আগে বিএনপি মহাসচিব আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আজকে শফিউল বারী বাবুর জানাজায় উপস্থিত হতে হবে, এটা আমরা কল্পনাও করিনি। বাবু শুধু স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছিলেন না, তিনি বিএনপির একটা প্রাণ ছিলেন। অসংখ্য নেতাকর্মী সারা দেশে তার হাতে তৈরি হয়েছে এবং বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে এ ধরনের ত্যাগী, মেধাবী, বুদ্ধিমান, লেখাপড়া জানা নিবেদিতপ্রাণ নেতা খুব কম আছে। বাবুকে হারিয়ে আমরা আমাদের একটা অমূল্য সম্পদকে হারালাম।’ বাবুর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতির এক নির্ভীক সৈনিক ছিলেন মরহুম শফিউল বারী বাবু। দলের সব ক্রান্তিকালে দায়িত্ব পালন করতেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে। স্বৈরশাহীর নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করেও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে মরহুম বাবু থাকতেন সামনের কাতারে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বিএনপির এই সৈনিক, শহীদ জিয়াউর রহমানের এই সৈনিক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই সৈনিক কখনো পেছনে ঘুরে তাকাননি। আন্দোলনে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকার কোনো তুলনা হয় না। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি, আল্লাহতায়ালা যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।’

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ও প্রয়াত বাবুর বড় ভাই সাহেদুল বারীও শফিউল বারীর অবদানের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শতাধিক মামলার আসামি শফিউল বারী বাবু ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে কাজ করেছেন নিরলসভাবে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের আন্দোলনে শামিল থেকেছেন তরুণদের নেতা হিসেবে। গণতন্ত্রের প্রতি ছিল তার দায়বদ্ধতা। দলের সব সংকটকালে তার সাহসী নেতৃত্ব ছিল নেতাকর্মীদের জন্য প্রেরণার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে অনেকবার কারাভোগ করতে হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক মহামারী করোনায় আতঙ্কিত ও নিরন্ন মানুষের কাছে ত্রাণ তৎপরতায় তিনি দৃষ্টান্ত রেখেছিলেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার জানান, প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট থাকায় শফিউল বারী বাবুকে গত সোমবার বেলা ১১টায় তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীর ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি। রাত ২টার দিকে তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ফুসফুসে সংক্রমণজনিত কারণে বাবুর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি রাজধানীর ইস্কাটনের বাসাতেই ছিলেন। কিন্তু সোমবার হঠাৎ করে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে দ্রুত আনোয়ার খান মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে তার করোনা পরীক্ষা করা হলে ফলাফল নেগেটিভ আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত