আজ থেকে শুরু একাদশে অনলাইন ভর্তির আবেদন

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ০৬:৫৯ এএম

আজ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। এই ভর্তি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

গত মার্চ মাসের শুরুতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হলেও দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ফল প্রকাশ করতে দেরি হয়। গত ১০ মে থেকে একাদশে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়ে ভর্তি নীতিমালা জারি করা হলেও নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ৩১ মে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটি জানায়, আগের প্রকাশিত নীতিমালা অনুসারে ৯ আগস্ট থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যঃঃঢ়://িি.িীরপষধংংধফসরংংরড়হ.মড়া.নফ থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আর নগদ, সোনালী ব্যাংক, টেলিটক, বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা যাবে। বোর্ড থেকে আরও জানায়, একজন শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে ৫টি কলেজে পছন্দক্রম অনুসারে আবেদন করতে হবে। তবে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দক্রম অনুসারে আবেদন করতে পারবে। মেধা ও পছন্দক্রম অনুসারে নির্দিষ্ট কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হবে। একাদশে ভর্তির জন্য সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একাদশ শ্রেণিতে এইচএসসি ও আলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশ করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। পুনর্নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ভর্তির জন্য প্রথম দফায় অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে ৯ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। তবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে অনলাইন সার্ভিস ও কল সেন্টার বন্ধ থাকবে। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ২৫ আগস্ট রাত ৮টায়।

শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চায়ন করতে হবে ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থী সিলেকশন নিশ্চায়ন না করলে প্রথম পর্যায়ের সিলেকশন এবং আবেদন বাতিল হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ ৩১ আগস্ট থেকে চলবে ২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। পছন্দক্রম অনুসারে প্রথম মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ হবে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ হবে একই দিন (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়।

দ্বিতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থেীদের সিলেকশন নিশ্চায়ন ৫ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থী সিলেকশন নিশ্চায়ন না করলে দ্বিতীয় পর্যায়ের সিলেকশন এবং আবেদন বাতিল হবে।

তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ চলবে ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর। পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ হবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়।

তৃতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সিলেকশন নিশ্চায়ন করতে হবে ১১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। সিলেকশন নিশ্চায়ন না করলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে আর কলেজভিত্তিক চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হবে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায়। ভর্তি চলবে ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

জানা গেছে, এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী ও বিকেএসপি কোটা বহাল থাকছে। তবে অন্যান্য কোটা নিয়ে নীতিমালায় কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও ব্যয় কমাতে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। শুধু অনলাইনে সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

একাদশে বিশেষ কোটা হিসেবে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, দশমিক ৫ শতাংশ বিকেএসপি ও দশমিক ৫ শতাংশ প্রবাসী কোটা বহাল থাকছে। প্রবাসীদের সন্তান ভর্তির বিষয়ে সরাসরি বোর্ডে আবেদন করতে হবে।

এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের বাংলা মাধ্যম ভর্তির জন্য ৯ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমের ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকার বেশি করা যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে রসিদ প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে ২ হাজার টাকা, ঢাকা ব্যতীত অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না।

পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১০ মে থেকে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দিয়ে ভর্তি নীতিমালা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত