পানিতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করায় হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ। এমনকি অভয়ারণ্যের পানিতেও বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বনটির শত শত খাল-নদীর অণুজীব। বিষের কারণে জলজ প্রাণীর প্রজনন বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ নদী-সাগর থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ। অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক লোকজন ও মহাজনরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলেদের দিয়ে এ কাজ করাচ্ছেন।
বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও পুলিশের অভিযানে সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরা জেলেদের কাছ থেকে ১ মাসে বিষের বোতল, মাছসহ ২৮ জেলেকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানকালে ২০টি নিষিদ্ধ ভেষালি জাল ও মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সুন্দরবনে নিয়মিত মাছ ধরেন এমন কয়েকজন জেলে জানান, সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের কয়েকটি এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব স্থানে বিষ দিয়ে মাছ ধরা চলছে পুরোদমে। এক যুগের বেশি সময় ধরে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় বিষ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। তবে দুয়েক বছরে এই হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলে ও স্থানীয়রা বলেন, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক লোকজন ও মহাজনরা সিন্ডিকেট করে জেলেদের দিয়ে ভয়াবহ এ কাজ করাচ্ছেন। আর এই চক্র প্রতি মাসে ভাগাভাগি করে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। মানুষ খাচ্ছে বিষাক্ত মাছ।
বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট সুন্দরবনের খাল ও নদী পরিদর্শন করার জন্য ৭৬টি ফরেস্ট ক্যাম্প ও ১৭৮ জন বন প্রহরী রয়েছেন; যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। সুন্দরবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লোকবল ও সরঞ্জাম নেই। তবে বর্তমানে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র্যাব সুন্দরবন সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়রার এক জেলে বলেন, আমরা অনুমতি নিয়ে মাছ ধরতে যাই। কিন্তু অনেক জেলে আছে যারা অনুমতি না নিয়ে বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টাকা দিয়ে পানিতে বিষ ঢেলে মাছ ধরে।
পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরার কারণে সুন্দরবনের মাছসহ নানা অণুজীবী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বনব্যবস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ কাজের সঙ্গে জড়িত।
পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক আবু সালেহ বলেন, বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের দায়ে এক মাসে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে আটক করে আইনে সোপর্দ করা হয়েছে। এ কাজে বন বিভাগের লোক জড়িত কি না, তা খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।
