নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পৃথক দুটি পুকুর থেকে তিন শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে ডোমার উপজেলার চিলাহাটি গ্রামের প্রগতিপাড়ার একটি পুকুর থেকে সাত মাসের মেয়ে শিশুসহ মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠিয়েছে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র।
অপর দিকে দুপুরে একই উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ঘোনপাড়া গ্রামের এক পুকুর থেকে দুই শিশুর
মরদেহ উদ্ধার করেছে ডোমার থানা পুলিশ।
নিহতরা হলেন চিলাহাটি গ্রামের প্রগতিপাড়ার ইসমাইল হোসেন স্ত্রী আলেয়া বেগম (২৫) ও তার সাত মাসের মেয়ে শিশু মনি আক্তার।
এলাকাবাসী জানায়, ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী আলেয়া মানসিক রোগি হওয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার সকালে শিশু মনি বিছানায় পায়খানা করলে শরীরে লেগে থাকে। সেটি পরিস্কার করার জন্য বাড়ি সংলগ্ন পুকুর পাড়ে শিশুকে মনিকে নিয়ে যায় তার মা আলেয়া বেগম। এরপর দীর্ঘ সময়েও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। পরে সকাল ৯টার দিকে ওই পুকুরের পানিতে মা-মেয়ের মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকার লোকজন। পরে পুলিশ এসে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে বুধবার দুপুরে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ঘোনপাড়া গ্রামে পুকুরপাড়ে খেলার সময় পানিতে পড়ে মৃত্যু হয় সাইমা বেগম (৫) ও সুমনা আক্তার (৬) নামের দুই শিশুর। সাইমা ইউনিয়নের চাকধাপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ও সুমনা একই গ্রামের সুমন রহমানের মেয়ে।
সোনারায় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই দুই শিশু ঘোনপাড়া গ্রামে আত্মীয় আব্দুর রহিমের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে পুকুরে ধারে খেলতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে পানিতে পড়ে যায় ওই দুই শিশু। পরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকার লোকজন।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সোনারায় ইউনিয়নের ঘটনায় অভিযোগ না থাকায় দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
