ফরিদপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সিদ্দিকী কামরুল আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। এ সময় তিনি উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে ফুলের তৈরি একটি নৌকা তুলে দেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এ উপলক্ষে ভাঙা উপজেলা আওয়ামী লীগের চত্বরে এক যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভাঙা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ফরিদ মিয়া।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভাঙা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কামরুজ্জামান সিদ্দিকী কামরুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুণ এই পরিবহন মালিক নেতা কামরুল সিদ্দিকী ভাঙ্গা উপজেলার মালি গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিয়া বাড়ির সন্তান। তার পরিবারের কেউ কোনো দিন স্বাধীনতাবিরোধী পক্ষের রাজনীতি করেনি। এ ছাড়া সুদীর্ঘ জীবনে কামরুল সিদ্দিকীও কোনো দিন আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছেন এমন কোন কথাও শুনিনি।
কামরুল সিদ্দিকীর মতো নেতার আওয়ামী লীগে যোগদান অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত থাকবেন উল্লেখ করে ভাঙা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা আকরামুজ্জামান রাজা বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় এখন সীমিত আকারে এই যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ কারণে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরুল্লাহ সাহেবও এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে কাজী জাফরুল্লাহ সাহেবের সম্মতিতে তারই নির্দেশে কামরুল সিদ্দিকীর আজকের এই যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যোগদান অনুষ্ঠানে কামরুজ্জামান সিদ্দিকী তার বক্তব্যে বলেন, আমার ছাত্রজীবনের শুরুতে রাজেন্দ্র কলেজে এইচএসসির ছাত্র হিসেবে আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে ছিলাম।
ফরিদপুরের সাবেক ছাত্রনেতা জিয়াউল হাসান মিঠু, অনিমেষ রায় সহ সকলেই সেটি ভালো জানেন। তবে পরে কিছু বিরোধিতার কারণে আমি সেসময় দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারিনি। তবে তখন থেকেই আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আমার মনে প্রাণে ধারণ করে আসছি।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরুল্লাহর রাজনৈতিক সচিব এনামুল হকের সঞ্চালনায় যোগদান অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভাঙা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি একরাম আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ ও হাজী সোবহান মুন্সি, জেলা যুবলীগের সদস্য রাজিব হোসেন সুজন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহীন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শফিউল মিয়া প্রমুখ।
তার এই যোগদানের বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের ( স্বতন্ত্র) এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, আওয়ামী লীগ সেখানে শুদ্ধি অভিযান করছে, সেখানে একজন বিতর্কিত লোককে দলে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় জনগণের কাছে প্রশ্ন বিদ্ধ বলে মনে করেন এই এমপি ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কামরুল সিদ্দিকীকে ফুলের তৈরি নৌকা দিয়ে আওয়ামী লীগে বরণ করে নেন।
