মায়ের মুখাগ্নি-শ্রাদ্ধ করবেন না বলে জানিয়ে দেন রজতাভ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ১২:৫৭ পিএম

কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত বাংলাদেশের সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। তার জীবন সিনেমার মতো উত্থান-পতনে ভরা। এমনকি অভিনেতার রয়েছে নিজস্ব জীবন-দর্শন, যা তার সংসারের অন্যদের সঙ্গে মেলে না। অভিনেতার সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ সব কথা জানায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

নবম শ্রেণি পড়াকালে দুর্ঘটনায় বাবাকে হারান রজতাভ। সেই থেকেই মা বেলা দেবীই ছিলেন অবলম্বন। এখন বাড়িতে থাকেন সেটি মায়ের তত্ত্বাবধানেই তৈরি, নাম ‘বেলাভূমি’।

এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, বাবার মৃত্যুর পর মা সেভাবে কাঁদেননি। ডিপ্রেশন গ্রাস করছিল তাকে। তবু সন্তানদের মানুষ করতে এবং সংসারের কথা মাথায় রেখে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসেন।

রজতাভের কথায়, মা তাদের ওপর কখনো কিছু চাপিয়ে দিতেন না। এমনকি, রজতাভ হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিলেও সেভাবে ক্ষোভ বা দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেননি।

অভিনেতার চাকরি ছাড়ার বৃত্তান্তটি বেশ নাটকীয়। বরাবরই অভিনয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল তার। সে সময়ে নাটকে অভিনয় করতেন। আর নাটকের শো থাকলে অফিসে হাফ ছুটি নিতেন।

একদিন অফিসের ম্যানেজার রজতাভকে ডেকে বলেন, এভাবে চলতে পারে না। তিনি মেনেও নেন এবং বলেন, “আমার সিগারেট শেষ হয়ে গেছে, একটা সিগারেট দিন এবং একটা সাদা কাগজ দিন। আমি রেজিগনেশন দেব।”

এরপর অফিস থেকে বেরিয়েই পরপর তিনটি সিনেমা দেখেন রজতাভ। রাতে বাড়ি ফিরে চাকরি ছাড়ার কথা বলায় মা শুধু বলেছিলেন, “কিছু বলে যাসনি তো!”

রজতাভ যখন চাকরি ছাড়েন তখন নাটকে অভিনয় থেকে রোজগার করতেন না। আর সিনেমা-টিভির কাজ তো অনেক দূরের কথা। তার মাও উপার্জন করতেন না। অর্থাৎ সংসারে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ছিল।

রজতাভ জানান, মা আস্তিক হলেও তিনি নিজে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে আস্থাশীল নন। মা জীবিত থাকাকালীন সব রকম সাধ পূর্ণ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে জানিয়েই দেন, মৃত্যুর পর ছেলে হিসেবে তিনি মুখাগ্নি বা শ্রাদ্ধ করবেন না। কারণ, এসবে তার বিশ্বাস নেই। যা বলেছিলেন, বাস্তবে তাই করেছেন রজতাভ। তার ভাই এই সব দায়িত্ব পালন করেন। মায়ের মৃত্যুর পর নিরামিষ ভোজন বা অশৌচ পালনও করেননি অভিনেতা।

রজতাভের শুধু একটাই আক্ষেপ, মাকে প্লেনে চড়ানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু মায়ের শরীর নানা কারণে দুর্বল থাকায় তা আর হয়ে ওঠেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত