স্ট্রোকের লক্ষণ ও প্রতিকার

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ১২:১৭ এএম

বিশ্বব্যাপী মানব মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ স্ট্রোক। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসই স্ট্রোকের জন্য প্রধানত দায়ী। পাশাপাশি ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে স্ট্রোকের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কের রোগ। সাধারণত মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি হলে স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বিকল হয়ে যায়। তবে স্ট্রোক হলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। স্ট্রোক-পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক নিয়ম মেনে চললে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যায়। এমনকি আবার স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি এড়ানোও সম্ভব হয়।

স্ট্রোকের লক্ষণ

স্ট্রোক যেহেতু খুবই পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা, তাই স্ট্রোকের লক্ষণগুলো বুঝতে পারাটা খুব জরুরি। নিচে স্ট্রোক বোঝার পাঁচটি উপায় দেওয়া হলো

মুখ বেঁকে যাওয়া : স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে মুখ বেঁকে যাওয়া। রোগীর মুখের এক পাশ বেঁকে গেলে বা অসাড়তা অনুভব করলে তাকে হাসতে বলুন। যদি রোগী হাসতে না পারে তবে স্ট্রোক হয়েছে বলে ধরে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

অবশ হাত ও পা : স্ট্রোক হলে এক পাশের হাত অথবা পা কিংবা উভয় পাশের হাত ও পা অবশ বা দুর্বল অনুভূত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে হাত অথবা পা ওপরের দিকে তুলতে বলুন। স্ট্রোকের রোগী হলে হাত বা পা ওপরে ওঠাতে পারবে না।

কথা বলতে অসুবিধা : স্ট্রোকের রোগীকে প্রশ্ন করলে সে ঠিকমতো উত্তর দিতে পারবে না। রোগীকে একই প্রশ্ন বারবার করলে এটা বোঝা যাবে। দেখা যাবে, প্রশ্নের উত্তরে রোগী ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না।

শরীরে ভারসাম্যহীনতা : স্ট্রোকের রোগীর শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে না। হাঁটার সময় চলাচলে সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। রোগীকে হাঁটতে বললে দেখা যাবে সে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। তবে এ সময় রোগীর পাশে অবশ্যই কাউকে থাকতে হবে। তা না হলে রোগী ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে পারে।

মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা : স্ট্রোকের রোগীর কোনো কারণ ছাড়াই মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে। সাধারণত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক হলে তীব্র মাথাব্যথা অনুভূত হয়।

স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়

স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা অত্যাবশ্যক। ঝুঁকি এড়াতে রক্তের কোলেস্টেরল, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ধূমপান, জর্দা, গুল, মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণের অভ্যাস বর্জন করতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। স্ট্রোক প্রতিরোধের কার্যকর পন্থা হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। নিয়ম করে প্রতিদিন ৩০ মিনিট এবং সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি ও সতেজ ফলমূল খাওয়ার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। এর পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় চর্বি ও শর্করাজাতীয় খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সাদা চিনি, লবণ, ভাত, ময়দা ও পাস্তুরিত গরুর দুধ পানের ব্যাপারে সতর্ক

থাকতে হবে। পাশাপাশি স্ট্রোক হওয়ার পরে তা বুঝতে পারা এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমে মৃত্যুঝুঁকি এবং স্ট্রোক-পরবর্তী সময়ে জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে আনা যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত