নিজ হাতে ঠান্ডা মাথায় স্বামী ও দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরের এক চিকিত্সক।
মঙ্গলবার ওই চিকিত্সকের বাড়ি থেকে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ একটি সুইসাইড নোটও পেয়েছে।
নারী চিকিৎসকের হাতে লেখা ওই সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, জীবনে সুখী ছিলেন না। তাই স্বামী-সন্তানদের খুন করে, নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
এই সময় জানায়, চিকিত্সকের স্বামী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে। অবশ্য তাদের মরদেহের পাশ থেকে সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার নাগপুরের কোরাডি এলাকার ওম নগরের বাড়ি থেকে ডাক্তার সুষমা রানে (৪১), স্বামী ধীরজ (৪২) এবং ৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ধীরজ নাগপুরের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যাপনা করতেন।
কোরাডি থানার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার জানান, বেডরুম থেকেই চারজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। চিকিত্সক সুষমার দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল। তার স্বামী ও দুই সন্তানের নিথর দেহ পড়েছিল বিছানায়।
ধীরজের বৃদ্ধা চাচি ওই বাড়িতেই থাকতেন। এদিন দীর্ঘক্ষণ ধীরজদের বেডরুম বন্ধ দেখে মনে খটকা লাগে। অনেক ক্ষণ ডাকাডাকি করেও তিনি বন্ধ ঘর থেকে কারও সাড়া পাননি। পুলিশ তার ফোন পেয়েই ওই বাড়িতে গিয়ে বেডরুমের দরজা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, বেডরুম থেকে সুইসাইড নোটের সঙ্গে দু’টি সিরিঞ্জ উদ্ধার হয়েছে। সুইসাইড নোটে লেখা- তিনি জীবনে খুশি ছিলেন না। তাই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, খাবারের সঙ্গে তিনজনকে চেতনানাশক কিছু মিশিয়ে খাইয়েছিলেন সুষমা। স্বামী ওই দুই সন্তান জ্ঞান হারালে তিনি ইনজেকশন প্রয়োগ করেন।
তবে, মৃত্যু নিশ্চিত করতে কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ সে বিষয়ে নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তা জানা যাবে।
আইপিসির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
