প্রবাসী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আলজাজিরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে সেখানে গ্রেপ্তার হওয়া রায়হান কবির অবশেষে দেশে ফিরেছেন। করোনাকালে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের ওপর নিপীড়নের কথা জানিয়ে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারের জের ধরে রায়হানকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। পরে রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার রাতে দেশে পাঠানো হয় তাকে।
গতকাল শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ২১নং ওয়ার্ড শাহী মসজিদ এলাকায় তার বাসভবনে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে রায়হান কবির বলেন, আমি একাই লড়াই করেছি এবং জিতে এসেছি। এখন আমি আমার বাকি জীবনটা প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করতে চাই।
রায়হান কবির এ সময় জানান, আগে মালয়েশিয়া জেলে আসামিদের খুবই নিম্ন মানের খাবার দেওয়া হতো। ১৫ জনের কক্ষে রাখা হতো ৩০-৩৫ জন। কিন্তু তিনি জেলে যাওয়ার পর থেকে জেলখানা কিছু পরিবর্তন হয়েছে।
রায়হান জানান, তিনি গত শুক্রবার যখন মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে হাজির হন তখন অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানান। কেউ কেউ এগিয়ে ছবি তুললেন। গায়ে কুঁচকানো শার্ট দেখে একজন তার শার্ট দিয়ে দিলেন।
রায়হান কবির বলেন, প্রবাসী এই ভাইদের জন্য কিছু করতে চাই আমি। সারা জীবনই তাদের পাশে থাকতে চাই।
বৃহস্পতিবার রাতে রায়হানের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন তাকে দেশে পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। শুক্রবার রাত ১টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান রায়হান। এয়ারপোর্টের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের সদস্যরা রাত ২টায় রায়হানকে কাছে পান। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার বাসায় পৌঁছান ভোর ৫টায়।
রায়হান কবীর জানান, আলজাজিরার সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে তিনি কিছুই বলেননি। শুধু প্রবাসীদের দুঃখ কষ্ট ও সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। পুলিশ একটি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করেছিল। ফলে চার্জ গঠন করতে পারেনি।
গত ৩ জুলাই মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসনকারীদের দুঃখ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে আলজাজিরা টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়ে দেশটির সরকারের রোষানলে পড়েন রায়হান কবির। এই অভিযোগে ৮ জুলাই মালয়েশিয়া সরকার তার ওয়ার্কপারমিট বাতিল করে এবং ২৪ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ১৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেখানকার পুলিশ।
