নীলফামারীর সৈয়দপুরে ধানক্ষেত থেকে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর লাশ বাবার বাড়ির পাশের ধাতক্ষেতে ফেলে রেখে গেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত বালাডাঙ্গার দোলা থেকে শনিবার দুপুরের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত আকলিমা বেগম (৩৫) দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া রসুলপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত ডাঙ্গুয়া গ্রামের মৃত আবেদ আলীর মেয়ে।
থানা পুলিশ জানায়, শনিবার সকালের দিকে কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত বালাডাঙ্গার দোলার একটি ধানক্ষেতে আকলিমা বেগমের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়।
পরে পুলিশ এসে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যার নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত আকলিমা বেগমের ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, আকলিমার বিয়ে হয়
দিনাজুপর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া রসুলপুর গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। আমার বোন স্বামীর বাড়িতেই ছিল। শনিবার হঠাৎ স্থানীয় লোকজন জানান আমার বোনের মরদেহ আমাদের বাড়ির পাশের ধান ক্ষেতে পড়ে আছে। আমিসহ পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় আমার বোনের মরদেহ পড়ে আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার দুলাভাইয়ের মুঠোফোনে কল দিই এ সময় তার ফোন বন্ধ পাই।
আমার ধারণা নির্যাতন শেষে গলাটিপে হত্যা করার পর আমার বোনের মরদেহ আমাদের বাড়ির এলাকায় ফেলে গেছে দুলাভাইসহ তার পরিবারের লোকজন।’
সৈয়দপুর থানা-পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল হাসনাৎ বলেন, ‘গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা তদন্ত চলছে।’
