শিক্ষকদের ‘অপমানজনক আচরণে’ আত্মহত্যা: অরিত্রীর মা

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ০৫:২৭ পিএম

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর শিক্ষকদের ‘অন্যায় অপমানজনক আচরণ ও  হুমকির কারণে’ আত্মহত্যা করেছে বলে আদালতে জানিয়েছেন তার মা। এ আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় দুই শিক্ষকের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়না জারি করে আদালত। 

ওই দুই শিক্ষক হলেন  নাজনীন আক্তার ও জিনাত আরা।

রোববার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ আদেশ দেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী হিসাবে এদিন আদালতে জবানবন্দি দিতে আসেন অরিত্রীর মা বিউটি অধিকারী।
জামিনে থাকা দুই আসামি নাজনীন আক্তার ও জিনাত আরা এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। হাজির না হওয়ার বিষয়ে তাদের আইনজীবীও কোনো আবেদন করেননি।

নিয়ম অনুযায়ী বিচারক দুই আসামির জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
বিউট অধিকারী সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের ‘অন্যায় অপমানজনক আচরণ ও  হুমকির কারণে’ মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে অরিত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। 

দুই আসামির মধ্যে নাজনীন ছিলেন ভিকারুননিসার প্রধান ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক; বেইলি রোডের ওই শাখার প্রভাতি শাখার প্রধান ছিলেন জিনাত।

মামলাটিতে আসামি ছিলেন অরিত্রীর শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাও। তবে অভিযোগপত্রে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৫ নভেম্বর এ মামলার বাদী অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সালাহউদ্দিন হাওলাদার জানান।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর শান্তিনগরের বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী (১৫)। তার আগের দিন পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে তাকে পরীক্ষা হল থেকে বের করে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, অরিত্রী পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকল নিয়ে টেবিলে রেখে লিখছিল। অন্যদিকে স্বজনদের দাবি, নকল করেনি অরিত্রী।

৪ ডিসেম্বর তার বাবা দিলীপ অধিকারী আত্মহননে প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। ওই মামলায় অরিত্রীর শিক্ষকদের পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরে তারা জামিন পান।

গত বছর ২৮ মার্চ নাজনীন ও জিনাতকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত