প্রায় ৭০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে চালু থাকা রাজশাহী চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। চিনিকলের কাছে তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এদিকে মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রাজশাহী চিনিকলের তথ্যমতে, চলতি বছর এখানে ৮ হাজার ১৯ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। এর বেশিরভাগই বিক্রি হয়ে গেছে। তবে গত বছর ৭০ কোটি টাকা লোকসানের সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রমিকদের চার মাসের বকেয়া বেতন ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এছাড়া ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণবাবদ চিনিকলের ওপর প্রতি বছর ৪০-৪৫ কোটি টাকা সুদ যোগ হচ্ছে । এ চিনিকলে কর্মচারী ৪৪৫ জন। আর শ্রমিক আছেন ২২৮ জন। এছাড়া চুক্তিভিক্তিক কিছু শ্রমিকও আছেন।
এদিকে ঈদুল আজহার আগেই বকেয়া বেতন পাওয়ার আশা করছিলেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। কিন্তু তারা শুধু এপ্রিল মাসের বেতন পেয়েছেন। চলতি বছর নভেম্বর মাসে আবার শুরু হবে আখ মাড়াই মৌসুম। কিন্তু উৎপাদিত চিনির একটি অংশ এখনো অবিক্রীত অবস্থায় গুদামে পড়ে আছে। ফলে চিনি বিক্রি করতে না পেরে টাকার অভাবে পড়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।
রাজশাহী চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগে টাকা না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে আখচাষিসহ শ্রমিক-কর্মচারীদের। বকেয়া বেতন ও কৃষকের আখের দাম পরিশোধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করলেও তা কাজে আসছে না। আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এর আগেও ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন মজুরি চূড়ান্ত করলেও সে অনুযায়ী বকেয়া ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আজও পাননি শ্রমিক-কর্মচারীরা। করোনা পরিস্থিতিতেও শ্রমিকদের বেতন না দেওয়ায় তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। দোকানদাররা বাকিও দিচ্ছেন না। তারা অনেকেই খাবার কষ্টে আছেন। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা ২০১৯ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের মজুরি এখনো পাননি। তাদের পাওনা প্রায় ৭৮ লাখ টাকা।
রাজশাহী চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শাহীনুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। উৎপাদিত বেশকিছু চিনি অবিক্রীত অবস্থায় গুদামে আছে। যার অনুমানিক মূল্য দিয়েই শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা যাবে। এজন্য আমরা এখন চিনি ও লালগুড় বিক্রির কাজ শুরু করেছি। এসব চিনি বিক্রি হলেই তাদের বেতন হয়ে যাবে। এছাড়া বকেয়া পরিশোধের জন্য আমাদের প্রধান কার্যালয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখান থেকেও যদি টাকা আসে তবে তাদের বেতন হবে।
