চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় বাঁশখালীর পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী, বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এপিএসসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম প্রতিবাদকারী প্রয়াত মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে হামলার ঘটনায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে মামলার আসামিদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এপিএস একেএম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল (৩৫), এনামুল হক (৩০), আবুল কালাম (৪২) ও মিজানুর রহমান (৩৫)। গ্রেপ্তার সবাই বাঁশখালীর এমপির অনুসারী বলে জানা গেছে।
কোতোয়ালী থানা সূত্রে জানা যায়, মামলার এজারে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী, বাঁশখালীর সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক এপিএস ও বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, জিল্লুল করিম শরীফি, মৌলভী আকতার হোসেন, ফজুল কবির প্রকাশ ফজু মেম্বার, আবুল কালাম, আবু ছালেক, মাহবুবুর রহমান, হারুনুর রশিদ (খানখানাবাদ), বাঁশখালীর এমপির এপিএস (সরকারি) মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, সেলিম উদ্দিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম (বাহারছড়া), হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, মঞ্জুরুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম, এনামুল হক, আবদুল মোমেন, মো. সেলিম, নাছির উদ্দিন, মো. হেলাল (বৈলছড়ি), বিপেশ চক্রবর্তী, মোজাম্মেল ডাকাত, ছৈয়দুল ইসলাম, মোরশেদুর রহমান নাদিম ও মনির উদ্দিন বাবু।
মামলার বাদী জহির উদ্দিন মো. বাবর দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী, আমার চাচা মৌলভী সৈয়দকে মুক্তিযোদ্ধা নয় বলে অসম্মান করার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্যদের সঙ্গে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছিলাম। এ সময় হঠাৎ ৪০-৫০ জন যুবক লাঠিসোটা নিয়ে সমাবেশে হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় ২৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছি। তারা সবাই বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী। যারা এই ন্যাক্কারজনক হামলায় জড়িত এবং ইন্ধন দিয়েছে সবাইকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এর আগে সোমবার সকালে মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ না দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোজাফফর আহমদ।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গন্ধু হত্যার পর প্রথম প্রতিবাদকারী বাঁশখালীর মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী সৈয়দকে মুক্তিযোদ্ধা নয় বলে অস্বীকার এবং বাঁশখালীতে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি বলে বাঁশখালীর এমপির মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে সকাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। এ সময় হঠাৎ কয়েকটি গাড়ি ভর্তি লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, মৌলভী সৈয়দের ভাই মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গার্ড অব অনার ছাড়াই বাঁশখালীর নিজ বাড়িতে তার দাফন হয়।
পরদিন গার্ড অব অনার না দেওয়ার প্রতিবাদে বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা মিলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। এতে বাঁশখালীর স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার ইন্ধন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার অভিযোগ উঠে।
মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার ছাড়া দাফনের ঘটনা তদন্তে গত ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
