প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা হবে না

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ০২:৪২ এএম

কভিড-১৯ মহামারীর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলতি বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে হবে না। এ পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হলে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ সচিব আকরাম আল হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে অভিভাবক ফোরাম।

এর আগে কয়েক দিন আগে পরীক্ষাটি না নেওয়াসহ কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ আকারে প্রস্তাব চিঠি পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারও আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, করোনার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ। ছুটির মেয়াদ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হলেও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে না-ও পাঠাতে পারেন। তখন যারা বিদ্যালয়ে যাবে এবং যারা যাবে না, তাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হবে।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির করা পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা নিতে হলে আরও প্রায় ৫০ কার্যদিবস পাঠদান প্রয়োজন। কিন্তু সেপ্টেম্বরে বিদ্যালয় না খোলা গেলে যে কার্যদিবস থাকবে, এতে পঞ্চম শ্রেণির বাকি পাঠদান শেষ করা সম্ভব নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষাটি না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দুই ব্যক্তি। প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাই না। তাই এ বছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছেন। আজ সেটি আমাদের হাতে এসেছে।’

জাকির হোসেন আরও বলেন, এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে সমাপনী-ইবতেদায়ি পরীক্ষা নেওয়া না হলেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস মূল্যায়নের মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। তবে স্কুল খোলা সম্ভব হলে পঞ্চম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য ক্লাসের পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খোলা হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে (নেপ) পাঠ্যক্রমের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে প্রস্তাব দিতে বলা হয়। তারা সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে বিদ্যালয় খোলা হলে কতটুকু পড়ানো হবে, সে বিষয়ে প্রস্তাব পাঠায়। যেহেতু সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, তাই মঙ্গলবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল সভা করে পরবর্তী দুটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে সমাপনী-ইবতেদায়ি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি প্রদান করা হবে না, তবে নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। আগামী বছর পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হলে আবারও বৃত্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত