শ্রমিকের মজুরি

ফের তিন মাসের জন্য আরও ঋণ চান পোশাকমালিকরা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ০১:১৬ এএম

মার্চ থেকে দুই দফায় চার মাসের জন্য তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সামান্য সুদে মালিকদের টাকা দেওয়া হয়েছিল। এবার ফের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সরকারের কাছে টাকা চেয়েছে পোশাক মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে উভয় সংগঠনের পক্ষ থেকে এ চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, আগামী মাসগুলোতে পোশাক রপ্তানি কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কাছ থেকে এই সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি কমে যাবে। ফলে শ্রমিকের বেতন দেওয়া কঠিন হবে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হলে কারখানাগুলো টিকে থাকতে পারবে। বিশে^র অন্যান্য দেশেও করোনার এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

মহামারী করোনা সংক্রমণ শুরুর পর পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছিল সরকার। সেই তহবিল থেকে ২ শতাংশ ‘সার্ভিস চার্জে’ (সুদে) ঋণ নিয়ে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিয়েছেন মালিকরা। ওই তহবিলের মেয়াদ ফুরানোর পর আরও তিন মাসের (জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) বেতন-ভাতা দিতে প্রণোদনা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

ওই আবেদনের পরিপেক্ষিতে সরকার শিল্প ও সেবা খাতের জন্য যে ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছিল, সেখান থেকে শুধু জুলাই মাসের বেতন-ভাতা দিতে ঋণের ব্যবস্থা করে। আর সে জন্য ওই তহবিলের আকার ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এখন আবার তিন মাসের বেতন-ভাতা দিতে সরকারের কাছে ঋণ প্রণোদনা চেয়েছে পোশাক খাতের এই দুই সংগঠন।

গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাই মাসের বেতন পরিশোধের জন্য ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে যে চিঠি দিয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল, শেষবারের মতো চলতি জুলাই মাসের মজুরি দিতে এই তহবিল থেকে ঋণ পাবেন পোশাক শিল্প মালিকরা। গত জুনে যেসব উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছিলেন, এর বাইরে নতুন কেউ পাবেন না। তবে এই তহবিলের ঋণের সুদের হার হবে ৯ শতাংশ, যার অর্ধেক বা সাড়ে ৪ শতাংশ সরকার ভর্তুকি দেবে, বাকিটা ঋণগ্রহীতা পরিশোধ করবেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত জুন থেকে পোশাক রপ্তানি বাড়তির দিকে। করোনায় হারানো রপ্তানি আদেশ আবার ফিরে এসেছে। ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পোশাক রপ্তানি থেকে আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি বেড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত