পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের মতো ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ ও পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিটির বৈঠকে এই পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈঠকে এ ঘটনার বিষয়ে বাহিনীপ্রধানরা যার যার ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। কমিটির এক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, মো. ফরিদুল হক খান ও পীর ফজলুর রহমান অংশ নেন।
ওই সদস্য বলেন, আজকের (বৃহস্পতিবার) আলোচনায় সিনহা হত্যা বিষয়টি প্রাধান্য পায়। একজন সদস্য প্রসঙ্গটি তোলেন। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু আলোচনা করা ঠিক হবে না। ওই ঘটনায় ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যেই হোক তার বিচার হবে। কমিটির পক্ষ থেকে আমরা বলেছি, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে। সে জন্য সজাগ থাকতে হবে এবং পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মাদকসংক্রান্ত মামলার আসামিরা যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হতে না পারে, সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈঠকে গণমাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বিএসটিআইর আদলে ডোপ টেস্ট বা বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য একটি পৃথক প্রাতিষ্ঠানিক কর্র্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
টুকু গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রথমত আমরা ডোপ টেস্ট শব্দের বদলে “বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা” কথাটা ব্যবহার করতে বলেছি। ডোপ টেস্ট অনেকে করাতে রাজি হন না বা বিষয়টিকে নেগেটিভভাবে দেখেন। যেমন ধরেন আমি রাজনীতিক আপনি সাংবাদিক। ডোপ করাতে বললে কেমন যেন মনে হয়। তাই বলেছি, বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা। কেউ মাদক কিংবা অননুমোদিত ওষুধ গ্রহণ করছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে “ডোপ টেস্ট” করা হয়। পরীক্ষায় ফল “পজিটিভ” পেলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই ধরনের কিছু গ্রহণ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত চাকরির পূর্বশর্ত হচ্ছে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। এই সুপারিশ আমরা আগেই করেছি। সব জায়গায় এটা করার জন্য বলেছি। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির আগে এটা করার জন্য বলছি। ভর্তির আগে এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ জমা দিতে হবে। মানে আমি সুস্থ শিক্ষার্থী নিলাম আর সুস্থ মানবসম্পদ জাতিকে দিলাম। এটা নিশ্চিত করতে হবে।’
বিশেষ প্রতিষ্ঠান চালু করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই টেস্ট কারা করবে? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে, তারা করতে পারে। কিন্তু সেখানে ম্যানিপুলেট হতে পারে। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আলাদা প্রতিষ্ঠান আছে। তাহলে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। এই প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। মন্ত্রণালয় এখন দেখবে এটা বাস্তবসম্মত কি না।’
