জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধনের নির্দেশ গণমাধ্যমের ওপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নীল নকশা বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, সরকারের এই আদেশ অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সম্প্রচার কমিশন এবং অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তার আগেই দেশের সমস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণের পৃথক নিবন্ধন করতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশ সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করবে। এ নির্দেশ মূলত গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অপচেষ্টা বাস্তবায়নের পথে আরও এক আত্মঘাতী পদক্ষেপ।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট একাধিক আইন ও নীতিমালা রয়েছে। তারপরও নিবন্ধনের এ নির্দেশ সাংবাদিকতার স্বার্থে নাকি গণমাধ্যমকে চাপে রেখে সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলকে সমালোচনা ও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা?
অবাধ তথ্য প্রবাহ ও মত প্রকাশের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমগুলো আরও শক্তিশালী করা জরুরি ছিল। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহের সাংবিধানিক অধিকার হরণকে আইনি কাঠামোয় নিয়ে আসার জন্য একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করা হচ্ছে। আবার একই সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টি করে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে দেশের গণমাধ্যমগুলো টিকে থাকার লড়াইয়ে আছে। এমন সময়, তাড়াহুড়ো করে নিবন্ধনের এই নির্দেশ রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রচেষ্টার নিদর্শন।
তিনি বলেন, অনলাইন গণমাধ্যমের নামে সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের সুযোগ রোধ করুন। পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যমে মুক্ত সাংবাদিকতার পথটাও উন্মুক্ত রাখুন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের কষ্টার্জিত অধিকার ভূলুণ্ঠিত করবেন না। অন্যথায় ‘অবাধ তথ্য প্রবাহ’, ‘স্বাধীন মত প্রকাশ’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এসব শব্দমালা শুধু কাগুজে ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে, যা কোন কল্যাণকামী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিচয় হতে পারে না। অতি দ্রুত সরকার তার এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে টিআইবি।
