মহামারী করোনার মধ্যে আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ স্ফীত হতে দেখা যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশেও গত পাঁচ মাস ধরে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে একের পর এক রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১১২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা হিসাবে)। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মূলত প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে আটকে ছিল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিলে রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। এরপর মে মাসে ৩৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ও জুনের শেষে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন রেকর্ড তৈরি হয় রিজার্ভে। আর ২৭ জুলাই রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। ২০১৯ সালের জুনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। গত এক বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর দিনের শুরুতে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৯৪০ কোটি ডলারে। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশের কাছে এখন যে পরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ আছে তা দিয়ে প্রায় নয় মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয়ে দুই শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ায় এখন বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। এছাড়া আমদানি ব্যয়ের চাপও কম রয়েছে। এর বাইরে করোনার কারণে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাইকাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণসহায়তা ও অনুদান বাড়ায় বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ স্ফীত হতে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া আগস্ট মাসের ২৭ দিনে দেশে ১৭২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছর পুরো আগস্ট মাসে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসীরা ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠান, একক মাস হিসেবে যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছর জুনে, ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৮২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। কোনো একক অর্থবছর হিসাবে এটিও রেকর্ড। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত অর্থ দেশে আসেনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। সে হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার বা ১৫ হাজার কোটি টাকা।
